ইয়েমেনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে গত কয়েকদিনের সংঘাত চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। সংঘর্ষের মুখে প্রাণ বাঁচাতে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর আকুল চেষ্টা চালাচ্ছে শত শত বাস্তুচ্যুত পরিবার।

ইয়েমেন সরকারের দুই সামরিক কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রধানত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের ৮৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুতিদের সামরিক সূত্র একই সময়ে তাদের ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এটাই ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা।

হুতি বিদ্রোহীরা মোখা বন্দর নগরীর সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন করা এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার কৌশলগত বাব আল-মানদাব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে হামলা শুরু করে। এএফপি জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় হুতিরা তাইজের সঙ্গে মোখা বন্দরের সংযোগকারী প্রধান সড়কটি কেটে দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

তাইজ প্রদেশের মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা পরিবারগুলো আল-বারিন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। বাস্তুচ্যুত এক নারী রওদাহ হাসান নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ওপর চারদিক থেকে গুলি বর্ষণ হচ্ছিল। আমরা ছোট সন্তানদের নিয়ে জুতো পর্যন্ত পরার সময় না পেয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, ভারী গোলাবর্ষণের কারণে অন্তত ১ হাজার ৭৯০টি পরিবার চরম মানবিক ঝুঁকিতে পড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বাব আল-মানদাব প্রণালীর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে হুতিদের এই অগ্রযাত্রায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব বাণিজ্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত