রাশিয়ার Su-35 পেলে বদলাতে পারে ইরানের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত Su-35 যুদ্ধবিমান পাওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, রাশিয়া-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিমান সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৪৮টি Su-35 ইরানকে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর কতগুলো ইরানে পৌঁছেছে বা কবে নাগাদ পুরো চালান সরবরাহ হবে, সে বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের ওপর নির্ভরশীল। সেই অবস্থায় আধুনিক রুশ যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে দেশটির আকাশযুদ্ধের সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। তবে শুধু যুদ্ধবিমান হাতে পেলেই সক্ষমতার পূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে না; পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো এবং আধুনিক অস্ত্রের সমন্বিত ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে Su-35 চুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ হয়ে আসছে। কার্নেগি এনডাওমেন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ইরানকে ৪৮টি Su-35 সরবরাহ করতে পারে। আগের বিভিন্ন বিশ্লেষণেও ফাঁস হওয়া রুশ নথির বরাত দিয়ে একই সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে ব্যাপক সংখ্যায় ইরানে পৌঁছে গেছে এমন প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এখনো সীমিত। এ কারণে ইরান ইতোমধ্যে নির্দিষ্টসংখ্যক Su-35 পেয়েছে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব বিমান হাতে চলে আসবে এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অবশ্য ইরান এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রুশ সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে Yak-130 প্রশিক্ষণ বিমান পেয়েছে এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে।

ইরানের জন্য Su-35 কর্মসূচির গুরুত্ব শুধু যুদ্ধবিমান পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক আকাশযুদ্ধে একটি যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এর রাডার, সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত পাইলট, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ওপর। ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি কী ধরনের অস্ত্র, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আধুনিক আকাশযুদ্ধে দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। তবে ইরানকে ঠিক কোন অস্ত্র প্যাকেজ সরবরাহ করা হবে এবং এসব ব্যবস্থার কতটা বাস্তব সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য এখনো সীমিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিবেদনে ইরানকে ইতোমধ্যে Su-35 সরবরাহের দাবি করা হলেও এসব দাবির সবকটির স্বাধীন যাচাই নেই। ফলে বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায়, ইরান-রাশিয়ার মধ্যে Su-35 নিয়ে সামরিক সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৬–২০২৮ সময়ে ৪৮টি যুদ্ধবিমান সরবরাহের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কতটি বিমান ইরানে পৌঁছেছে এবং পূর্ণ অস্ত্র প্যাকেজসহ সেগুলোর কার্যকর সক্ষমতা কতটা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে পরিকল্পনাটি পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হলে ইরানের বিমানবাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমানের একটি নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে। এর প্রভাব নির্ভর করবে সরবরাহের সংখ্যা, অস্ত্র ও সেন্সর প্যাকেজ, পাইলট প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো কতটা কার্যকরভাবে গড়ে তোলা যায় তার ওপর।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন