মার্কিন অর্থনীতিতে কাঠামোগত ধসের আশঙ্কা এবং ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দুর্বলতার কথা বলেছেন জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক ও সাবেক মার্কিন মেরিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার। তেহরান টাইমস ও স্পুটনিক আয়োজিত যৌথ এক্স স্পেসে অংশ নিয়ে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি বাজার এবং ন্যাটোর সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
রিটারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি। তিনি বলেন, মার্কিন নীতির কারণে তেলের দাম ও ডিজেলের মূল্য বাড়ছে, যার প্রভাব স্থলপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। তার দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়াও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।
রিটার আরও দাবি করেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, রাশিয়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ডিজেল রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ায় বৈশ্বিক ডিজেল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পড়েছে। তবে এসব মূল্যায়নের স্বাধীন কোনো যাচাই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান প্রসঙ্গে রিটার দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণের একটি অংশ ইউক্রেনীয় বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার অভিযোগ, রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে, এমন ধারণা পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ছিল। রুশ পাল্টা হামলার পর সেই হিসাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীরবতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারবে, এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন রিটার। তার দাবি, দেশটির তেলক্ষেত্রগুলো দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে বিপুল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও সময় প্রয়োজন। ফলে ভেনেজুয়েলার তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে দেখাকে তিনি অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন।
মার্কিন অর্থনীতি কতদিন এই চাপ সামলাতে পারবে, এ প্রশ্নের জবাবে রিটার দাবি করেন, অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো, বড় বাজেট ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে গুরুতর চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, আগামী বছরের শুরুতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের নিজস্ব মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য বাড়লে পেট্রোডলারের প্রভাবও কমতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধে আকাশে সুপ্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রিটার সরাসরি দাবি করেন, ন্যাটোর সে সক্ষমতা নেই। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিমান অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, গোলাবারুদ, বিমানঘাঁটি এবং আকাশপথের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ন্যাটোর বিভিন্ন দুর্বলতা রয়েছে।
রিটার আরও দাবি করেন, রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ন্যাটোর যোগাযোগ ও কমান্ড কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। জার্মানিসহ কয়েকটি ন্যাটো দেশের বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ ঘাটতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ইউক্রেনকে দেওয়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়েও তিনি এগুলো পুরোনো এবং ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন হয়েছিল বলে দাবি করেন।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার তুলনায়ও রিটার রাশিয়াকে এগিয়ে রেখেছেন। তার দাবি, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে ন্যাটোর কয়েকটি দেশ নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত কমিয়েছে। রাশিয়ার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এসব সামরিক মূল্যায়ন রিটারের নিজস্ব বক্তব্য; প্রতিবেদনে এর স্বাধীন যাচাই বা ন্যাটোর পাল্টা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গেও রিটার মন্তব্য করেন। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময়ের সামরিক অভিযানও যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ণায়ক সাফল্য এনে দিতে পারেনি এবং ইরানি বাহিনী কৌশলগতভাবে মার্কিন বাহিনীকে চাপে ফেলেছিল। এ ছাড়া ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষার হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর একজন মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের যে ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবেদন হয়েছে, সেটি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, ঘটনাটির কিছু দিক এখনো স্পষ্ট নয় এবং এটি মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য উপস্থাপিত একটি বয়ান হতে পারে।
তবে রিটারের এসব বক্তব্য তার নিজস্ব বিশ্লেষণ ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। মার্কিন অর্থনীতি, ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে তার মন্তব্যগুলোর সবগুলোই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
হোয়াইট হাউসে সিএনএন প্রতিবেদকের প্রেস পাস জব্দ
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পেলো যুক্তরাষ্ট্র?
'কুমিরের কান্না বন্ধ করুন', বারোকে আরাঘচি