ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্কে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। তবে বৈঠকে ইরানের পক্ষে কারা ছিলেন বা কী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি খুব বেশি তথ্য দেননি। ট্রাম্প বৈঠকটিকে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করলেও পরে বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ ছিলেন না।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপ—দুই পথের কথাই তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে বড় একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে—ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি হবে কি না, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে, নাকি তিনি ইসলামিক রিপাবলিককে দ্রুত ‘নিশ্চিহ্ন’ করার পথে যাবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইরানকে ভবিষ্যতে অন্য দেশ ও মানুষের ক্ষতি করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
ট্রাম্প একই ভাষণে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। ফলে একই দিনে কঠোর সামরিক হুমকি ও সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুটি ভিন্ন বার্তা সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকটি তাঁর অনুমোদনেই হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, নিউইয়র্কে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্পও উন্মুক্ত। রুবিও বলেছিলেন, সমস্যা সমাধানে সরাসরি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বৈঠক মানেই যে দুই পক্ষের মধ্যে মতৈক্য হবে, তা নয়।
তবে ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান সরাসরি বৈঠক মঙ্গলবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যেই যোগাযোগ হয়েছে।
মার্কিন-ইরান যোগাযোগের এই উদ্যোগ এসেছে কয়েক মাসের অচলাবস্থার পর। জুনে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের যোগাযোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় মার্কিন ও ইরানি আলোচকেরা পৃথকভাবে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।
নিউইয়র্কের বৈঠক তাই যুদ্ধ চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে বৈঠকটি কোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির দিকে তাৎক্ষণিক অগ্রগতি তৈরি করেছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
বর্তমান সংকটে হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি হরমুজে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার ক্ষেত্রে নিজেদের কিছু শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরবর্তী ধাপ কতটা এগোয়, তা নির্ভর করবে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ এবং দুই পক্ষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দাবিগুলোতে কতটা সমঝোতা তৈরি হয় তার ওপর।
নিউইয়র্কের ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়েছে—একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার সামরিক হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর প্রতিনিধিরা একই দিনে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন।
এখন পর্যন্ত বৈঠক থেকে বড় কোনো সমঝোতার খবর না এলেও, কয়েক মাসের সংঘাত ও অচলাবস্থার পর এই যোগাযোগ ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান এখনো রয়েছে। ফলে নিউইয়র্কের বৈঠক কেবল নতুন কোনো আলোচনার সূচনা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার প্রথম ধাপ—তা নির্ধারণের জন্য পরবর্তী বৈঠক ও দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে।
কুয়েত বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ বাংলাদেশি আটক
এফবিআইয়ের বিপুল তথ্য চুরির দাবি করলো শাইনি হান্টার্স
প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের নিয়োগ ও পদায়নে রোডম্যাপ