প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলায় ৮০ দেশের নিন্দা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার নিন্দা জানিয়েছে ৮০টি দেশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশগুলোর যৌথ বিবৃতি পড়ে শোনান বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুললতিফ আল-জায়ানি।

যৌথ বিবৃতিতে উপসাগর ও লোহিত সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।

আল-জায়ানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হুমকি এখনো অত্যন্ত বাস্তব এবং তা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও হুতিদের হামলায় নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে তিনি বলেন, চলমান এই হুমকির কারণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানাচ্ছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনো ধরনের টোল, শর্ত বা আইনি ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি জরুরি ভিত্তিতে পুরোপুরি খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ইয়েমেনে সংঘাত পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত, সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা এবং লোহিত সাগরে হুতিদের হামলারও কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ৮০ দেশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাবের দিকে হুতিদের অগ্রসর হওয়া আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের কখনোই চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। নিরীহ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এমন কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা জানানো হয়েছে। আল-জায়ানি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ হলো রাজনৈতিক সমাধান।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, বাণিজ্যে বাধা এবং খাদ্য ও পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে দাম বাড়তে পারে, ক্ষুধা আরও তীব্র হতে পারে এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি থাকা বাহরাইন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরান সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, কাতার, তুরস্ক, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশ সরাসরি ওই সংঘাতের পক্ষ নয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ

এএস
আরও পড়ুন