রতের আকাশে আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উঠবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় পূর্ণিমার চাঁদ ‘হারভেস্ট মুন’ বা ‘ফসলের চাঁদ’। সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশে ধীরে ধীরে উঠবে উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ। আর এই চাঁদের কাছাকাছি দেখা যাবে সৌরজগতের বলয়ধারী গ্রহ শনি। পরিষ্কার আকাশ থাকলে খালি চোখেই চাঁদ ও শনিকে দেখা সম্ভব হবে।
নাসার সেপ্টেম্বরের আকাশ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকাতেও ২৬ সেপ্টেম্বরকে হারভেস্ট মুনের রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এদিন পূর্ব আকাশে চাঁদ উঠবে এবং তার কাছাকাছি থাকবে শনি। দূরবর্তী নেপচুনও একই অঞ্চলে থাকলেও সেটি খালি চোখে দেখা যাবে না; এর জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপ প্রয়োজন হবে।
‘হারভেস্ট মুন’ আসলে শরৎ বিষুবের সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ে হওয়া পূর্ণিমার প্রচলিত নাম।
উত্তর গোলার্ধে শরৎ বিষুব হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। এর মাত্র কয়েক দিন পর, ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা হওয়ায় এবারের সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমাই হারভেস্ট মুনের মর্যাদা পেয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ বছর সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমা একই সঙ্গে ‘কর্ন মুন’ নামেও পরিচিত হওয়ার কথা থাকলেও বিষুবের সবচেয়ে কাছাকাছি পূর্ণিমা হওয়ায় ‘হারভেস্ট মুন’ নামটিই প্রাধান্য পাচ্ছে।
নামটির সঙ্গে কৃষির পুরোনো ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। উত্তর গোলার্ধে শরৎকালে ফসল ঘরে তোলার সময়ে পূর্ণিমার আলো কৃষকদের রাতের কাজের জন্য অতিরিক্ত সময় ও আলো দিত। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক থেকেই ‘হারভেস্ট মুন’ নামটির প্রচলন।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত হবে আনুমানিক বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে। আর চাঁদ পূর্ব আকাশে উঠবে প্রায় বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ দিগন্তের ওপরে উঠে আসবে এবং সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
তবে শহরের উঁচু ভবন, গাছপালা, কুয়াশা বা মেঘের কারণে চাঁদ ওঠার প্রথম মুহূর্তটি অনেক জায়গা থেকে দেখা নাও যেতে পারে। তাই পূর্ব দিগন্তে খোলা জায়গা থেকে দেখার চেষ্টা করলে ভালো দৃশ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
পূর্ণিমার সঠিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে। তবে চাঁদকে পূর্ণ দেখার জন্য ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। পূর্ণিমার আগের ও পরের রাতেও চাঁদ প্রায় পুরোপুরি আলোকিত থাকে।
হারভেস্ট মুনকে অনেক সময় অন্য পূর্ণিমার তুলনায় বড়, উজ্জ্বল বা কমলা-লাল দেখায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে চাঁদ হঠাৎ অনেক বড় হয়ে যায়।
চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি থাকার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে তার আলোকে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। ফলে নীল আলোর তুলনায় লাল ও কমলা আলোর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। এ কারণে দিগন্তের কাছে থাকা পূর্ণিমার চাঁদকে অনেক সময় হলুদ, কমলা কিংবা হালকা লালচে দেখায়।
আর ‘মুন ইলিউশন’-এর কারণে দিগন্তের কাছে চাঁদকে আকাশের অনেক ওপরে থাকা চাঁদের তুলনায় বড় মনে হতে পারে। এটি মূলত মানুষের দৃষ্টিগত একটি বিভ্রম।
এবারের হারভেস্ট মুনের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর কাছাকাছি শনি গ্রহের অবস্থান।
নাসা জানিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর হারভেস্ট মুনের সঙ্গে শনিও রাতের আকাশে থাকবে। খালি চোখে শনিকে একটি উজ্জ্বল হলুদাভ-সাদা তারার মতো দেখা যেতে পারে। চাঁদকে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করলে শনিকে খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ হবে।
তবে শনির বিখ্যাত বলয় খালি চোখে দেখা যাবে না। সেটি দেখতে টেলিস্কোপ প্রয়োজন। ভালো মানের টেলিস্কোপে শনির বলয়ও দেখা যেতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট Space.com-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদের নিচের দিকে শনিকে খুঁজে দেখা যাবে। স্থানীয় সময় রাত ৯টার পর পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব আকাশের দিকে তাকালে শনিকে শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।
চাঁদ ও শনির পাশাপাশি একই আকাশ অঞ্চলে থাকবে নেপচুন। কিন্তু নেপচুন অনেক বেশি ম্লান হওয়ায় খালি চোখে তা দেখা সম্ভব নয়।
নাসার হিসাবে, নেপচুনের উজ্জ্বলতা প্রায় ৮ ম্যাগনিচুডের পর্যায়ে। ফলে সেটিকে দেখতে দূরবীন বা টেলিস্কোপ প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ সাধারণ দর্শকের জন্য শনিবার রাতের প্রধান আকর্ষণ হবে উজ্জ্বল হারভেস্ট মুন ও তার কাছাকাছি শনির অবস্থান।
হারভেস্ট মুনের সৌন্দর্য শুধু ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ণিমার আগে ও পরের রাতেও চাঁদকে প্রায় পূর্ণ দেখায়। ফলে শনিবার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে পরবর্তী রাতেও পূর্ণিমার কাছাকাছি চাঁদ দেখার সুযোগ থাকবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অবশ্য পরিষ্কার আকাশ, কম আলো এবং পূর্ব দিগন্তে বাধাহীন দৃষ্টিসীমাকে সবচেয়ে ভালো পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করেন। শহরের তীব্র আলোকদূষণ চাঁদকে দেখার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা না হলেও শনির মতো তুলনামূলক ম্লান বস্তুকে শনাক্ত করা কঠিন করে দিতে পারে।
হারভেস্ট মুন দেখতে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই দেখা যাবে। তবে ভালোভাবে উপভোগ করতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে—
সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশের দিকে তাকান। উঁচু ভবন বা গাছপালা থেকে মুক্ত খোলা জায়গা বেছে নিন। চাঁদ ওঠার সময় দিগন্তের কাছাকাছি থাকায় প্রথম দিকে এর রং কমলা বা হলুদাভ মনে হতে পারে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ আকাশে আরও ওপরে উঠবে।
চাঁদের কাছাকাছি উজ্জ্বল বিন্দুটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করুন—সেটিই শনি। টেলিস্কোপ থাকলে শনির বলয় দেখার সুযোগ মিলতে পারে।
নেপচুন দেখতে চাইলে শক্তিশালী দূরবীন বা টেলিস্কোপ প্রয়োজন হবে।
হারভেস্ট মুন প্রতি বছরই দেখা যায় না—এমনটা নয়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তারিখে ঘটে না। শরৎ বিষুবের কাছাকাছি যে পূর্ণিমা হয়, সেটিই হারভেস্ট মুন নামে পরিচিত। ফলে কোনো কোনো বছর এটি সেপ্টেম্বর মাসে হয়, আবার কোনো বছর অক্টোবরের পূর্ণিমা এই নাম পায়।
এবার ২৩ সেপ্টেম্বরের শরৎ বিষুবের মাত্র কয়েক দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা হওয়ায় এটি ২০২৬ সালের হারভেস্ট মুন হয়েছে।
আর এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো—চাঁদের কাছাকাছি একই আকাশে শনির উপস্থিতি। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য শনিবারের রাতটি হতে পারে বছরের অন্যতম উপভোগ্য আকাশ-দর্শনের সুযোগ।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অবস্থান বদলাবে না ইরান
পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী দেশ' বললেন জয়শঙ্কর
‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ ছড়িয়ে নিজের অপরাধ ঢাকতে চেয়েছেন নেতানিয়াহু: মামদানি
ডিম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? কী বলছেন পুষ্টিবিদরা