লড়াইও করবে, আলোচনাও চালাবে ইরান: গালিবাফ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে না উচ্ছ্বসিত, না ভীত। বরং দেশটি একই সঙ্গে ‘লড়াই ও আলোচনা’ চালিয়ে যাবে।

গালিবাফ বলেন, “আমরা সামরিক ময়দানে সর্বশক্তি নিয়ে উপস্থিত আছি এবং নতুন নতুন চমক দিয়ে তাদের মোকাবিলা করব। একই সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং ইরানি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কূটনীতির হাতিয়ারও ব্যবহার করব।”

তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, যুদ্ধের ময়দানে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান।

গত মাসে যুদ্ধ অবসানের জন্য কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি শর্ত উপস্থাপন করে ইরান। এসব শর্তের মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

এ ছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ, ইরানের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে মার্কিন সহযোগিতা বন্ধ এবং ইরানের ভূখণ্ডে সব ধরনের মার্কিন হামলা বন্ধের দাবিও জানানো হয়।

তেহরানের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইরান শুধু সামরিক পরিস্থিতি নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের বিষয়গুলোও সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলে আসছে। ফলে একদিকে সামরিক সংঘাত এবং অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ দুই পথই একই সঙ্গে এগিয়ে চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের বক্তব্য ইরানের বর্তমান কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তেহরান সরাসরি সংঘাত থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সংকেত না দিয়ে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের শর্ত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের শর্ত ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অবস্থানের ওপর।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত