'স্বাস্থ্যকর' খাবার খেয়েও বাড়ছে ব্লাড সুগার!

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম

রক্তে শর্করার (ব্ল্যাড সুগার) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা অনেকেই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনি। আপনি কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন—এই বিষয়গুলো শরীরে গ্লুকোজের মাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বেড়ে যাওয়া বা হঠাৎ নেমে যাওয়া এড়িয়ে চলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস না থাকলে খাবারের পর শর্করার মাত্রা কিছুটা বাড়া খুবই স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পর এটি বাড়ে এবং তা কতটা বাড়বে তা নির্ভর করে খাবারের ধরন, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, মানসিক চাপ ও প্রতিটি মানুষের শারীরিক গঠনের ওপর।

তবে আপাতদৃষ্টিতে 'স্বাস্থ্যকর' খাবার খাওয়ার পরও যদি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। পুষ্টিবিদরা এমন ৪টি লক্ষণ ও এর পেছনের খাদ্যসংক্রান্ত কারণ উল্লেখ করেছেন:

১. খাওয়ার পরেই আবার ক্ষুধা লাগা

খাবার গ্রহণের পর শরীর তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে এবং তা রক্তে প্রবেশ করে। স্বাস্থ্যবান মানুষের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয়ে এই গ্লুকোজকে কোষে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, ফলে শর্করার মাত্রা আবার কমে আসে। কিন্তু রক্তে গ্লুকোজের এই পতন যদি খুব দ্রুত বা মারাত্মক হয়, তবে খাওয়ার পরপরই আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবারের (আঁশ) অভাব থাকলে এমনটি ঘটে। প্রোটিন ও ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে তৃপ্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

২. শক্তির মাত্রায় হঠাৎ ওঠানামা

খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ খুব চাঙ্গা বোধ করা এবং কিছুক্ষণ পরই ক্লান্তি নেমে আসা রক্তে শর্করার ওঠানামার স্পষ্ট লক্ষণ। রিফাইন বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর ইনসুলিন নির্গমন করে। অনেক সময় ওটমিল ও ফল, স্মুদি কিংবা হোল-গ্রেইন টোস্টের মতো পুষ্টিকর খাবারও পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফ্যাট বা ফাইবারের অভাবে দ্রুত হজম হয়ে ক্লান্তি বা ক্ষুধা তৈরি করতে পারে।

৩. ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া

পর্যাপ্ত পানি পানের পরও যদি ক্রমাগত তৃষ্ণা পায় এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয়, তবে তা রক্তে উচ্চ শর্করার লক্ষণ হতে পারে। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমলে শরীর তা পাতলা করতে কোষ থেকে পানি রক্তে টেনে আনে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলস্বরূপ শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফল বা শস্যের মতো স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খেলে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

৪. মাথাব্যথা হওয়া

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার দ্রুত পরিবর্তন মস্তিষ্কের শক্তি বিপাক, ইনসুলিন সংকেত এবং রক্তনালীর কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এছাড়া উচ্চ শর্করার কারণে তৈরি হওয়া পানিশূন্যতাও মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে।

সূত্র: ইটিং ওয়েল

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত