আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবের মধ্যেই আফগানিস্তানে চলছে পান্না উত্তোলন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

আফগানিস্তানের পানশির উপত্যকায় অতি সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিকূল পরিবেশে পান্না উত্তোলন করছেন খনি শ্রমিকেরা। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, ভূমিধস, তুষারধস ও পাথরধসের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের উত্তোলিত পান্নার প্রতি বিশ্বজুড়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটিতে নিলামে বিক্রি হওয়া পান্নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি আফগানি, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।

পানশির প্রাদেশিক সরকারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক নিলামে রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকা ও বিদেশ থেকে আসা ক্রেতারা অংশ নেন। তারা মোটামুটি অপরিশোধিত সবুজ রত্নপাথরগুলো মোবাইল ফোনের আলোয় পরীক্ষা করে মান যাচাই করেন। উন্নত মানের পান্নার জন্য প্রতিযোগিতামূলক দর হাঁকান ক্রেতারা। নিলাম শেষে প্রায় তিন হাজার ক্যারেট পান্না বিক্রি হয়। চলতি বছরে এ ধরনের ২৩তম নিলাম ছিল এটি।

রত্নপাথর ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা হাবিবি বলেন, পানশিরের পান্নার মান খুব ভালো হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ক্রেতা রয়েছে। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পান্নার তুলনায় এগুলোর দামও বেশি।

বছরের পর বছর যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে মূল্যবান খনিজের বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত পানশির উপত্যকায় কর্মসংস্থানের বড় উৎস এই খনি খাত। খনি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আমান রেজাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পানশিরের খনি খাতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করছেন।

উপত্যকার খাড়া পাহাড়ি ঢালে ভূগর্ভে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন শ্রমিকেরা। পাথুরে ও প্রায় অনুর্বর এই ভূপ্রকৃতিতে অন্য কাজের সুযোগ সীমিত। রেজাই বলেন, এলাকায় বড় কোনো কোম্পানি বা উৎপাদন কারখানা নেই বললেই চলে। খনিই এখানকার কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে খননকাজের জন্য দুই হাজারের বেশি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান সরকার মূল্যবান রত্নপাথর ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলনে প্রধানত চীন, রাশিয়া ও ইরানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কয়েক ডজন চুক্তি করেছে বলে জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খনি ও তেলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের নিলাম থেকে আয় বাড়ায় এপ্রিল ও মে মাসে আফগানিস্তানের সরকারি রাজস্ব আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে আফগানিস্তানের রত্নপাথর খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি রয়ে গেছে। পানশিরের গভর্নর হাফিজ মুহাম্মদ আগা হাকিম বলেন, আফগানিস্তানের মূল্যবান খনিজের জন্য বিশেষ করে কাবুলে একটি আন্তর্জাতিক বাজার গড়ে তোলার বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। তার মতে, দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নির্ধারণের যন্ত্রপাতি আনা গেলে রত্নপাথর রপ্তানির আগে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে এ ধরনের কোনো মানসম্মত কেন্দ্র বা যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা নেই।

অন্যদিকে, খনির ভেতরে প্রায় অন্ধকার পরিবেশে কাজ করা শ্রমিকদের কাছে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব বড় সমস্যা। মাহদি নামের এক শ্রমিক বলেন, উন্নত সরঞ্জাম না থাকায় তাদের নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। বেলচা, গাঁইতি, ড্রিল ও এ ধরনের সাধারণ যন্ত্র দিয়েই তারা খননকাজ চালান।

রেজাই বলেন, উপযুক্ত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা গেলে শ্রমিকদের কাজ সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে আরও দক্ষভাবে খনিজ উত্তোলন করা সম্ভব হবে, যা আফগানিস্তানের মানুষ বিশেষ করে খনি শ্রমিকদের জন্য উপকারী হবে। তবে পানশিরের খনিগুলোতে ভূমিধস, তুষারধস, বন্যা ও ওপর থেকে পাথর পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে মূল্যবান পান্না উত্তোলনের জন্য শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

এএস
আরও পড়ুন