ইরানে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিকল্পনা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এই বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে। তবে ইরানের গভীরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে বোমাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য পেন্টাগন বেশ কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে ট্রাম্প সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে এসব পরিকল্পনা কাজে লাগানো হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিপুলসংখ্যক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এসব পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা।

সম্ভাব্য অভিযানের সময় নিয়ে একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বাধীন অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ থেকে এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়ে বিজয় ঘোষণা এবং পরে অঞ্চলটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে।

পারমাণবিক স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্য

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি সামরিক পরিকল্পনাতেও এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরান সেখানে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ করেছে।

গত কয়েক মাসে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি বারবার দিয়েছেন ট্রাম্প। বছরের শুরুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করার পরও তিনি এ হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

তবে এমওএবির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বোমাটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম হলেও ভূগর্ভের অনেক গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য এটি কতটা উপযোগী, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো সুরক্ষিত স্থাপনার ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য কম তীব্রতার হামলা থেকে শুরু করে শক্তিশালী আক্রমণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করে সামরিক বাহিনী। গভীর ভূগর্ভে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে বিশেষ ধরনের অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। এ কারণেই সামরিক পরিকল্পনায় এমওএবির ব্যবহার বিবেচনায় এসেছে।

বোমাটি জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রায় নয়টি শহুরে ব্লকের সমপরিমাণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। তবে সূত্রগুলোর ধারণা, গ্রানাইটের একাধিক স্তর দিয়ে সুরক্ষিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার মতো গভীরতায় এটি পৌঁছাতে পারবে না। ইরানের অন্যান্য অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও বোমাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এমওএবিকে গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার অস্ত্রের পরিবর্তে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস করার উপযোগী বোমা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে শক্তিশালী বিস্ফোরণতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। ফলে ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটলেও গভীরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

যুদ্ধ শেষ করতে চাপে ট্রাম্প

ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। যুদ্ধটির প্রতি জনসমর্থন কম থাকায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ইরানে বোমা হামলা চালালেও ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে, এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা যুদ্ধকে কার্যত বিজয় হিসেবে বর্ণনা করলেও প্রেসিডেন্ট নিজে এখনো চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা করেননি। বরং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংঘাতের একটি চূড়ান্ত সমাপ্তি কীভাবে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা আলোচনা করছেন। তাঁদের লক্ষ্য, কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা বজায় রেখেই যুদ্ধের ফলাফলকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপনের পথ খুঁজে বের করা।

বাইরের কয়েকজন মিত্র ট্রাম্পকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে সংঘাত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর যুক্তি, এভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি আর সামরিক পদক্ষেপ নেবেন না। তবে সিএনএনকে কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, তাঁর এই প্রতিশ্রুতি চূড়ান্ত কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। নির্বাচনের আগে অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

সামরিক চাপ বাড়াতে বোমার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব?

ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় থাকলেও ইরানের ওপর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে এমওএবি ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে পূর্ণমাত্রার নতুন অভিযান শুরু না করেও তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ট্রাম্প কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য বোধ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বোমাটির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা হতে পারে। কারণ, অস্ত্রটি মূলত গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি নয়।

ওই সূত্রের মতে, ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা নির্ণায়ক সামরিক বিজয় অর্জন সম্ভব না হলেও বোমাটি ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাইরের কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, সামরিকভাবে ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে বড় ধরনের স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ এখন পর্যন্ত এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেননি।

ইরানের ভেতরে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ কম বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে রাজনৈতিক জটিলতার মুখে ফেলেছে। একদিকে যুদ্ধটি অজনপ্রিয়, অন্যদিকে সংঘাত বন্ধে এখনো কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হয়নি।

যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এমন পথ খুঁজছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট মার্কিন জনগণের সামনে অন্তত প্রতীকী বিজয় তুলে ধরতে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনাও ধরে রাখতে চান তাঁরা।

সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাব্য সূচনা হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চুক্তির মধ্য দিয়ে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে তা সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করতে পারে।

পেন্টাগনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র প্রস্তাবিত কিছু সামরিক বিকল্পকে ‘আতশবাজির প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সূত্রটির মতে, এসব হামলার মাধ্যমে মূল যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ দেওয়া হতে পারে।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প অনুমতি দিলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেন্টকমের আওতাধীন অঞ্চলে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চল থেকে ফিরে যাওয়া কিছু সেনার পরিবর্তে নতুন সেনা পাঠানো নাও হতে পারে।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের বক্তব্য

সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে, এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসন মন্তব্য করে না। তিনি আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রাখছেন।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা বিভাগ বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করে।
তবে এসব বক্তব্যে ট্রাম্প এমওএবি ব্যবহারের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন কি না, কিংবা ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট কোনো হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের কথা মাথায় রেখে তৈরি

ইরাক যুদ্ধের সময় এমওএবি তৈরি করা হয়। এটি এমন একটি বায়ুবিস্ফোরণ অস্ত্র, যা মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে ব্যাপক বিস্ফোরণতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়।
২০০৩ সালে বোমাটির পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অস্ত্রটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল। এর বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইরাকি সেনাদের আতঙ্কিত করা, আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার পরিকল্পনা ছিল।

প্রাথমিকভাবে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি মাটির ওপরের শক্তিশালী বাংকারকে বোমাটির সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। পরে গুহা ও সুড়ঙ্গের মতো অপেক্ষাকৃত নরম ভূস্তরের নিচে থাকা স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৭ সালের এপ্রিলে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের অবস্থানে এমওএবি ব্যবহারের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বোমা ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
আফগান সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা ওই এলাকায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত। হামলার পর আফগান কর্মকর্তারা জানান, এতে গোষ্ঠীটির ৩৬ যোদ্ধা নিহত হন। মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, বিস্ফোরণে তিনটি সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছিল। সে সময় কোনো বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। 

এএস
আরও পড়ুন