আজ ২২ অক্টোবর, জাতীয় বাদাম দিবস (ন্যাশনাল নাট ডে)। বাদামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালিত হয়। ছোট আকারের এই খাবারে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। নিয়মিত সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত বাদাম খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি সুস্থ থাকতেও সহায়তা করতে পারে।
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, পেস্তা কিংবা চিনাবাদাম, প্রতিটি বাদামেরই রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ। তবে বাদামের ধরন অনুযায়ী পুষ্টি উপাদানের পরিমাণে পার্থক্য থাকে।
হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক
বাদামে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে আখরোটে রয়েছে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বাদাম খাওয়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
প্রোটিনের ভালো উৎস
শরীরের পেশি, কোষ ও বিভিন্ন টিস্যুর গঠন এবং মেরামতের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। বাদামে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকায় এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হতে পারে। বিশেষ করে নিরামিষ খাবার খাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বাদাম উপকারী বিকল্প।
হজমে সহায়তা করে
বিভিন্ন ধরনের বাদামে খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে
বাদামে থাকা প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ফলে খাবারের মাঝখানে নাশতা হিসেবে বাদাম খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। তবে বাদামে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, তাই পরিমিত খাওয়াই ভালো।
ভিটামিন ও খনিজের জোগান দেয়
কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই, যা কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কাজুবাদামে পাওয়া যায় ম্যাগনেশিয়াম ও তামা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বাদামে রয়েছে ফসফরাসসহ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নানা খনিজ উপাদান।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
বাদামে থাকা প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু বাদাম খেলেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নয়। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
কোন বাদাম কীভাবে খাবেন
কাঠবাদাম : সরাসরি খেতে পারেন কিংবা ওটস ও দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন। কাজুবাদাম: নাশতা হিসেবে অথবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা যায়। আখরোট: সালাদ, ওটস কিংবা দইয়ের সঙ্গে খেতে পারেন। পেস্তা: হালকা নাশতা হিসেবে খাওয়া যায়। চিনাবাদাম: সেদ্ধ বা ভাজা অবস্থায় খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত লবণ ও তেলযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলা ভালো।
দিনে কতটুকু বাদাম খাবেন
সাধারণভাবে দিনে এক মুঠো, অর্থাৎ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ গ্রাম বাদাম অনেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য উপযোগী পরিমাণ হতে পারে। তবে ব্যক্তির বয়স, পুষ্টির চাহিদা ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। সম্ভব হলে লবণ ও অতিরিক্ত চিনি ছাড়া বাদাম বেছে নেওয়া ভালো। যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে। বাদাম খাওয়ার পর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জাতীয় বাদাম দিবসে খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার কথা ভাবতে পারেন। তবে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।
ডিভি লটারির যোগ্য নয় বাংলাদেশ!
দেশের বাজারে কমলো সোনা-রুপার দাম, ভরি কত?
উন্নত চিকিৎসার জন্য ভূমিমন্ত্রীকে আনা হলো ঢাকায়
ক্যাসোয়ারির ডিমের রং উজ্জ্বল সবুজ! কিন্তু কেন?