মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশ সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। হামলা হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিমান পরিচালনার মহড়াও বাড়িয়েছে দুই দেশ। সম্ভাব্য হামলার কৌশল অনুশীলনের অংশ হিসেবে এসব তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। চলতি মাসেই হামলা হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার শেষ পর্যন্ত তিনি সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানে হামলা চালাতে আগ্রহী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আটকে রেখেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চান, দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর নেতানিয়াহু এ ধরনের খবরকে ভুল বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের অনীহা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে কর্মকর্তাদের ধারণা। তবে ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানো হচ্ছে, যা নভেম্বরের শুরুর দিকে অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন হামলার হুমকিকে চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গোপনে ইসরায়েল সফর করে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশটিতে নতুন করে হামলা চালানো হলে পাল্টা আঘাতের পরিধি আরও বাড়ানো হবে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেব্‌লও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা কয়েক মাস ধরে কার্যত স্থবির হয়ে আছে। দুই পক্ষের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্র কর্মসূচিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানালেও ইরান সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু পরাজিত হলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পক্ষে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টাও করতে পারেন তিনি। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

এএস
আরও পড়ুন