ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন। বিরোধী দলগুলো নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনী পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বেনেট।
সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে বেনেট বলেন, “নেতানিয়াহু হেরেছেন। ৭ অক্টোবরের সরকার এবার বিদায় নেবে।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক নীতি নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বেনেট তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারকে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করেন।
সামরিক সেবা নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ
বেনেট বলেন, যারা সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের নিয়ে গঠিত জোট সামরিক সেবা এড়িয়ে যেতে চাওয়া ব্যক্তিদের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করেছে। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
এর আগে প্রকাশিত এক্সিট পোলের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা আগের নেসেটে ৬৪ থেকে কমে ৫০-এ নেমে আসতে পারে। তবে চ্যানেল ১২-এর নতুন এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে ৫০টি এবং গাদি আইজেনকটের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে ৪৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য। তবে জরিপ বা এক্সিট পোলের ফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়।
‘পরিবর্তনের জোট’ গঠনে আলোচনা
বেনেট বলেন, “পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।” তিনি জানান, বিরোধী শিবিরের ‘পরিবর্তনের জোট’-এর নেতারা আলোচনা করছেন এবং সব ইসরায়েলির প্রতিনিধিত্ব করবে—এমন একটি ‘জায়নবাদী সরকার’ গঠনে সমন্বয় করছেন।
নিজের রাজনৈতিক অংশীদার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বেনেট। তাঁকে ‘ইসরায়েলি দেশপ্রেমিক ও প্রকৃত বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
বেনেট আরও বলেন, “আমাদের দেশকে সংশোধন ও পুনর্গঠন করতে হবে।” পরদিন সকাল থেকেই সেই কাজ শুরু করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
সরকার গঠনের লড়াই এখনো অনিশ্চিত
প্রকাশিত জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটের আসন কমার ইঙ্গিত থাকলেও বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সক্ষমতা নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ১২০ আসনের নেসেটে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন।
ফলে নির্বাচনী ফল, সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের অবস্থান এবং সরকার গঠনের আলোচনা—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন, নাকি ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হবে।
৭০ বছর পর ইস্তাম্বুলের মানচিত্রে ফিরছে অটোমান মসজিদ
নির্বাচনে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জনের দাবি নেতানিয়াহুর, চান ডানপন্থি সরকার
ইসরায়েল চিরকাল থাকবে: নেতানিয়াহু