ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সম্ভাব্য তিন সমীকরণ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত গণনা করা অধিকাংশ ভোটের ফলে কোনো পক্ষই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে উঠে আসেনি। এতে দেশটির রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তা চলতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে এখন একাধিক সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট বিদায়ী পার্লামেন্টে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে জোটটি ৫৩টি আসন পেতে পারে। অথচ ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে ক্ষমতায় ফিরতে হলে নেতানিয়াহুকে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজতে হবে।

একটি সম্ভাবনা হলো, বিরোধী দলগুলোর কোনো একটিকে নিজের জোটে টেনে আনার চেষ্টা করবেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিরোধী দলগুলো তার সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়া কয়েকজন রাজনীতিকের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাবও সীমিত থেকেছে। এ ছাড়া বিরোধী শিবিরের কোনো কোনো আইনপ্রণেতাকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঘাটতি পূরণে এ ক্ষেত্রে একাধিক আইনপ্রণেতার দলত্যাগ প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিরোধী শিবিরের। কিন্তু আদর্শিক, জাতীয়তাবাদী ও ব্যক্তিগত মতপার্থক্য তাদের সরকার গঠনের পথ জটিল করে তুলেছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল ২১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আরব দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন ছাড়া তার পক্ষে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন। দল দুটি মিলিয়ে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বিরোধী জোটের শরিকদের আরব দল দুটিকেও নিজেদের শিবিরের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর ইহুদি ও আরব ভোটারদের মধ্যে বর্ণবাদী বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি এ অবস্থান নেন। তবে আইজেনকটের দুই ডানপন্থী মিত্র আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন কিংবা তাদের বাইরের সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিরোধিতা করছে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে বিরোধী শিবিরের এক বা একাধিক দল যুক্ত হতে পারে। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহুর বর্তমান কট্টরপন্থী সরকার কাঠামোর পরিবর্তন ঘটবে। নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতারা উভয়েই এ সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে নতুন সরকার গঠনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর জন্য শেষ পর্যন্ত এ পথই অন্যতম বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

ফলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের পর ইসরায়েলের সামনে তিনটি প্রধান পথ রয়েছে, নেতানিয়াহুর বিরোধী দল থেকে সমর্থন আদায়, আরব দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধী জোটের সরকার গঠন, অথবা জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা। তবে কোনো পথেই এখনো নিশ্চিত সমাধান দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: সিএনএন

এএস
আরও পড়ুন