যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশটির ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) ওয়েবসাইটে হ্যাকারদের হামলায় নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী প্রচার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে বিঘ্ন ঘটছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রয়টার্সের দেখা একটি ইমেইল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক ফাইলিং ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরা সেবা পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন। তবে ওয়েবসাইটে আগে জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো অনুসন্ধান করে দেখার সুবিধা চালু রয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় থেকে ব্যবস্থাটি অচল হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কমিশনের হালনাগাদ বার্তায় বলা হয়, সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং সমাধান কার্যকর করার কাজ চলছে। তবে এরপরও ওয়েবসাইটে ফাইলিং ব্যবস্থা বন্ধ থাকার বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
কমিশনের এক ইলেকট্রনিক ফাইলিং কর্মকর্তা সোমবার রাতে কয়েকটি নির্বাচনী অর্থায়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো ইমেইলে জানান, এফইসির ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এক ক্ষতিকর পক্ষ। এ কারণে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত সেবাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব জানতে এফইসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।
এফইসি প্রার্থীদের ও রাজনৈতিক কমিটিগুলোর অর্থ ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনায় সংস্থাটির কোনো ভূমিকা নেই। তাই ওয়েবসাইট অচল থাকায় ভোটারদের ভোট দেওয়ার সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার কথা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নির্দিষ্ট নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ব্যয়ের তথ্য জানানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক ব্যয়-প্রতিবেদনগুলো ফাইল করা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক অর্থায়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমবিএ কনসাল্টিং গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্টিভেন মেলে বলেন, ২৬ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি এমন ঘটনা আগে দেখেননি। নির্দলীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের গবেষণা পরিচালক ব্রেন্ডন গ্লাভিনও ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এসব প্রতিবেদন থেকেই নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে কোন গোষ্ঠী কোথায় অর্থ ব্যয় করছে এবং কারা সেই অর্থ দিচ্ছে, তা বোঝা যায়। ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ভোটাররা এসব তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞাপন এবং ভবিষ্যতে প্রচারের জন্য সংরক্ষিত বুকিং মিলিয়ে এ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশ আসছে সুপার পিএসি ও তথাকথিত ডার্ক মানি গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। সুপার পিএসিগুলো ধনী ব্যক্তি ও করপোরেশনের কাছ থেকে সীমাহীন অর্থ অনুদান হিসেবে নিতে পারে এবং তুলনামূলক কম বিধিনিষেধের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয় করতে পারে। ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের সপ্তাহে এসব গোষ্ঠী প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। শুধু ২০ অক্টোবরেই ব্যয়ের পরিমাণ ২৫ কোটি ডলারের বেশি বলে জানিয়েছেন গ্লাভিন।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক অর্থের প্রবাহ বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হ্যাকিংয়ের পেছনে কারা রয়েছে, কীভাবে তারা ব্যবস্থাটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কিংবা কতটা তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারে বেন-গাভির ও স্মোট্রিচকে চান না ট্রাম্প
আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে দলগুলোকে আহ্বান প্রেসিডেন্টের
আসন কমে ৫৩-তে, চাপে নেতানিয়াহুর জোট