ইরান ও তুরস্কের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং বাজারগুলোর মধ্যে সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফারজানেহ সাদেঘ। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সাদেঘ বলেন, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে গভীর সাংস্কৃতিক, সভ্যতাগত ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরেও ঐতিহাসিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে এই বন্ধন তৈরি হয়েছে।
ইরানি এই মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বর্তমান বিশ্বে বন্ধুত্ব জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মূল্যবান ভিত্তি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
সাদেঘের ভাষ্য, ইরান ও তুরস্কের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৈচিত্র্যময় এবং পরস্পরের পরিপূরক। ফলে একে অপরের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ইরান-তুরস্কের পরিবহন ও যোগাযোগ সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন আঞ্চলিক অর্থনীতি ও বাজারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কও আরও সুদৃঢ় হবে।
সাদেঘ বলেন, তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্ক সম্প্রসারণ করলে উভয় দেশই উপকৃত হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তা ইতিবাচক অবদান রাখবে।
ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান সক্ষমতা এবং পারস্পরিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতে সম্পর্কের আরও বিকাশ ঘটানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে উভয় দেশের জনগণের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়বে।
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকট ও অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে সাদেঘ বলেন, এসব ঘটনা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় দেশগুলোর যৌথ দায়িত্বের গুরুত্ব আবারও তুলে ধরেছে। তার মতে, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুসরণ এবং সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: পারস টুডে
ইরানকে উন্নতির শিখরে নিতে তরুণদের প্রতি মোজতবা খামেনির আহ্বান
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েও তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু
হরমুজে মার্কিন 'গুপ্তচর ড্রোন' জব্দ আইআরজিসি'র