যেভাবে গড়ে উঠল এফবিআই

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

রাজনৈতিক দুর্নীতি, অপরাধের বিস্তার ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ওঠে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। এক শতাব্দীর বেশি সময়ের পথচলায় সেই ছোট বাহিনীই হয়ে ওঠে বিশ্বের পরিচিত গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থাগুলোর একটি।

আজকের এফবিআই বা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে চেনে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অপরাধ তদন্ত, সন্ত্রাসবাদ দমন, গুপ্তচরবৃত্তি প্রতিরোধ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির নাম উঠে আসে। তবে এর শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। ১৯০৮ সালে মাত্র ৩৪ জন তদন্তকারীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীনে যে বাহিনী গঠিত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই রূপ নেয় দেশটির প্রধান কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায়।

এফবিআইয়ের জন্মের পেছনে ছিল একটি বাস্তব প্রয়োজন। তখন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বদলে যাচ্ছিল। শিল্পকারখানা বাড়ছিল, শহর বড় হচ্ছিল, মানুষের চলাচল ও যোগাযোগ সহজ হচ্ছিল। কিন্তু অপরাধ দমনের ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না। স্থানীয় পুলিশ দিয়ে এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া অপরাধীদের মোকাবিলা করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার প্রয়োজন কেন দেখা দিল

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের গতি ছিল বেশ দ্রুত। ১৯০৮ সালের মধ্যে দেশটির শতাধিক শহরের জনসংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি বাড়ছিল শ্রমিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক অনিয়ম। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলাচ্ছিল।

সমস্যা ছিল আইন প্রয়োগের ব্যবস্থায়। বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বাহিনী থাকলেও তাদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং কাজের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। কোথাও নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল, কোথাও ছিল জনবল ও অর্থের সংকট। অপরাধীরা এক এলাকায় অপরাধ করে অন্য এলাকায় পালিয়ে গেলে তাদের খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ত।

কেন্দ্রীয় পর্যায়েও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নিজস্ব শক্তিশালী তদন্তকারী দল ছিল না। প্রয়োজন হলে অন্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে তদন্তকারী ধার করতে হতো। বিশেষ করে ট্রেজারি বিভাগের অধীন সিক্রেট সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হতো বিচার বিভাগকে। এতে তদন্তের কাজ যেমন ব্যাহত হতো, তেমনি তদন্তকারীদের ওপর বিচার বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণও থাকত না।

এই সীমাবদ্ধতা থেকেই নিজস্ব তদন্তকারী বাহিনী গঠনের চিন্তা সামনে আসে।

কংগ্রেসের সিদ্ধান্তে তৈরি হলো নতুন পথ

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট প্রশাসন সরকারি দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা বাড়াতে আগ্রহী ছিল। ১৯০৬ সালে চার্লস জে. বোনাপার্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচার বিভাগের তদন্তসংক্রান্ত দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু এ উদ্যোগ সহজ ছিল না। সরকারি বিভাগগুলোর কাজে সিক্রেট সার্ভিসের তদন্তকারীদের ব্যবহার নিয়ে কংগ্রেসে আপত্তি ওঠে। আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা ছিল, এভাবে বিভিন্ন বিভাগে গোয়েন্দা নিয়োগের সুযোগ থাকলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যেতে পারে।

১৯০৮ সালের মে মাসে কংগ্রেস সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীদের অন্য সরকারি বিভাগে ধার দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে বোনাপার্টের সামনে নতুন সংকট তৈরি হয়। বিচার বিভাগের নিজস্ব তদন্তকারী বাহিনী না থাকলে অপরাধ তদন্তের কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

শেষ পর্যন্ত তিনি নিজস্ব বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। বিচার বিভাগের কয়েকজন তদন্তকারী এবং সিক্রেট সার্ভিস থেকে নেওয়া কর্মকর্তাদের একত্র করে নতুন একটি বিশেষ এজেন্ট দল তৈরি করা হয়।

২৬ জুলাই ১৯০৮: এফবিআইয়ের জন্ম

১৯০৮ সালের ২৬ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল চার্লস জে. বোনাপার্ট একটি আদেশ জারি করেন। এতে বিচার বিভাগের তদন্তসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষ এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাহিনীটির দায়িত্বে ছিলেন প্রধান পরীক্ষক স্ট্যানলি ডব্লিউ. ফিঞ্চ।

এফবিআই আজও ২৬ জুলাইকে নিজেদের প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিষ্ঠার সময় বাহিনীতে ৩৪ জন তদন্তকারী ছিলেন বলে সংস্থাটির একটি ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে এফবিআইয়ের আরেকটি সরকারি টাইমলাইনে প্রাথমিক সদস্যসংখ্যার বিবরণ কিছুটা আলাদা। সেখানে ২৩ জন বিদ্যমান তদন্তকারী এবং ট্রেজারি বিভাগ থেকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া আটজনের কথা বলা হয়েছে।

শুরুতে সংস্থাটির নাম ছিল না এফবিআই। ১৯০৯ সালের মার্চে অ্যাটর্নি জেনারেল জর্জ ডব্লিউ. উইকারশাম এর নাম দেন ‘ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ বা বিওআই। পরে ১৯৩৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম হয় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

প্রথম দিকে যেসব অপরাধ নিয়ে কাজ করত সংস্থাটি

প্রতিষ্ঠার পর ব্যুরোর কাজ শুধু সাধারণ অপরাধ তদন্তে সীমাবদ্ধ ছিল না। সরকারি দুর্নীতি, ব্যাংক ও ভূমি জালিয়াতি, ব্যবসায়িক অনিয়ম, অবৈধ একচেটিয়া ব্যবসা, নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো বিষয়ও তাদের তদন্তের আওতায় আসে।

১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ম্যান অ্যাক্ট’ বা ‘হোয়াইট স্লেভ ট্রাফিক অ্যাক্ট’ পাস হয়। আন্তঃরাজ্য পর্যায়ে অবৈধ যৌন ব্যবসা ও মানব পাচার ঠেকানো ছিল এ আইনের উদ্দেশ্য। আইনটি বাস্তবায়নে তদন্তের দায়িত্ব পায় ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

ধীরে ধীরে সংস্থাটির কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। ১৯১৫ সালের মধ্যে বিশেষ এজেন্ট ও সহায়ক কর্মী মিলিয়ে জনবল প্রায় ৩৬০ জনে পৌঁছায় বলে এফবিআইয়ের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বদলে গেল দায়িত্ব

১৯১৪ সালে ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রথমদিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাব দেশটির নিরাপত্তার ওপরও পড়তে থাকে। জার্মান সাবমেরিনের হামলা, মার্কিন জাহাজে নাশকতা এবং অস্ত্র তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।

১৯১৭ সালের ৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যোগ দেয়। এরপর গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতা ঠেকাতে নতুন আইন করা হয়। ‘এসপিওনাজ অ্যাক্ট’ বা গুপ্তচরবৃত্তি আইন এবং পরবর্তী সময়ে ‘স্যাবোটাজ অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

যুদ্ধের সময় সংস্থাটিকে শুধু গুপ্তচরবৃত্তি তদন্তই করতে হয়নি। সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের খোঁজ, যুদ্ধকালীন অপরাধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জার্মান নাগরিকদের ওপর নজরদারির দায়িত্বও তাদের কাজের মধ্যে যুক্ত হয়।

এর মধ্য দিয়ে সাধারণ অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতায় সংস্থাটির ভূমিকা বাড়তে থাকে।

 

প্রথম ওয়ান্টেড নোটিশের গল্প

এফবিআইয়ের অপরাধী শনাক্তকরণের ইতিহাসে ১৯১৯ সালের একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ওই বছরের ২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ক্যাম্প এ এ হামফ্রেজ—বর্তমানে ফোর্ট বেলভয়ার—থেকে পালিয়ে যান ২৩ বছর বয়সী সেনাসদস্য উইলিয়াম এন. বিশপ। তাঁকে খুঁজে বের করতে সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ ব্যুরোর সহায়তা চায়।

ব্যুরোর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফ্রাঙ্ক বার্ক এরপর বিশেষ এজেন্ট, কর্মী ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বিশপের শারীরিক বর্ণনা, সম্ভাব্য ঠিকানা এবং তাঁর ছবি যুক্ত করা হয়েছিল।

১৯১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর নথিটি ‘আইডেন্টিফিকেশন অর্ডার নম্বর ১’ নামে চিহ্নিত হয়। এটিকেই এফবিআইয়ের প্রথম ওয়ান্টেড নোটিশ বা পলাতক শনাক্তকরণ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ধরা হয়। এর সহায়তায় ১৯২০ সালের ৬ এপ্রিল বিশপকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

পরবর্তী সময়ে এ ধরনের নোটিশে আঙুলের ছাপ, অপরাধের রেকর্ড এবং পরিচয়সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য যুক্ত হতে থাকে। ১৯৫০ সালে এফবিআই চালু করে বহুল পরিচিত ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকা।

পামার রেইডস: নিরাপত্তার নামে বড় বিতর্ক

এফবিআইয়ের শুরুর ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হলো ‘পামার রেইডস’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজম ও বিপ্লবী রাজনীতির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব, শ্রমিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা দেশটির প্রশাসনকে আরও সতর্ক করে তোলে।

১৯১৯ সালের ২ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল এ. মিচেল পামারের বাড়িতে বোমা হামলা হয়। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়।

পামার তাঁর দপ্তরে একটি বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগ গঠন করেন। তরুণ আইন কর্মকর্তা জে. এডগার হুভারকে দেওয়া হয় সেই বিভাগের দায়িত্ব। তিনি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের তালিকা তৈরি করেন।

১৯১৯ সালের শেষ দিক থেকে ১৯২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযান চালানো হয়। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের অনেককে পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।

কিন্তু অভিযানগুলো নিয়ে দ্রুত প্রশ্ন ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই মানুষকে আটক করা হয়েছিল। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগও সামনে আসে। ফলে নিরাপত্তা রক্ষার নামে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিতর্ক তৈরি হয়।

এফবিআইয়ের নিজস্ব ইতিহাসেও পামার রেইডসকে সংস্থার জন্য গৌরবের ঘটনা হিসেবে দেখা হয়নি। বরং এ ঘটনা দেখিয়েছে, অপরাধ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করাও কতটা জরুরি।

এফবিআইয়ের প্রথম নারী বিশেষ এজেন্ট

সংস্থাটির ইতিহাসে নারীদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ, যদিও তাঁদের পথ ছিল সহজ নয়।

এফবিআইয়ের প্রথম দিকের তিন নারী বিশেষ এজেন্ট ছিলেন আলাস্কা পি. ডেভিডসন, জেসি বি. ডাকস্টেইন ও লেনোর হিউস্টন। তাঁরা নিউইয়র্ক অফিসে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসে দায়িত্ব পালন করেন।

আলাস্কা ডেভিডসন ১৯২২ সালের অক্টোবরে এবং জেসি ডাকস্টেইন ১৯২৩ সালের নভেম্বরে সংস্থায় যোগ দেন। লেনোর হিউস্টন যোগ দেন ১৯২৪ সালের জানুয়ারিতে।

তবে তাঁদের চাকরিজীবন দীর্ঘ হয়নি। ১৯২৪ সালে জে. এডগার হুভার সংস্থার পরিচালক হওয়ার পর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ডেভিডসন ও ডাকস্টেইনকে চাকরি ছাড়তে হয়। হিউস্টন ১৯২৮ সালে পদত্যাগ করেন।

এরপর দীর্ঘ সময় নারী কর্মকর্তাদের বিশেষ এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৯৭২ সালের জুলাইয়ে জোয়ান পিয়ার্স ও সুসান রোলি বিশেষ এজেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু করলে নারীদের জন্য আবারও এই পদে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।

ছোট বাহিনী থেকে বড় প্রতিষ্ঠানে

১৯০৮ থেকে ১৯২৩ সাল—এই ১৫ বছরে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, সীমিত প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নতুন দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতার অভাব ছিল বড় বাধা। তবু এই সময়েই সংস্থাটির কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়, জনবল বাড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা তৈরি হয়।

১৯২৪ সালে জে. এডগার হুভার সংস্থাটির পরিচালক হন। তাঁর নেতৃত্বে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ এবং অপরাধী শনাক্তকরণব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে ব্যুরোর সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়। ১৯৩৫ সালে এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয় ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

এফবিআইয়ের জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অপরাধ তদন্তের প্রয়োজন থেকে। মাত্র কয়েক ডজন তদন্তকারী নিয়ে শুরু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

তবে এর ইতিহাসের আরেকটি শিক্ষা রয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি সেই দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। এফবিআইয়ের শুরুর দিনের সাফল্য ও বিতর্ক—দুই-ই সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI), ন্যাশনাল আর্কাইভস, লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)।

এএইচএ
আরও পড়ুন