সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং কোনো কূটনৈতিক আলোচনাতেও অংশ নেবে না ইরান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাইয়ের বৈঠক নিয়ে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় এ অবস্থান তুলে ধরেছে তেহরান।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে লেবাননের আল-মায়াদিন ও তেহরানভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস টিভি। ওই সূত্র পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত বৈঠকসংক্রান্ত কিছু খবরকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্রটির দাবি, পুতিনের কাছে রেজাই নতুন কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ বা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন—এমন খবরের সত্যতা নেই। বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা।
সূত্রটি আরও জানায়, বৈঠকে রেজাই স্পষ্ট করেছেন, ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত সম্পূর্ণভাবে এবং একই সঙ্গে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না তেহরান। এ বিষয়ে কোনো আলোচনাতেও বসবে না দেশটি।
ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, সাতটি শর্তের প্রতিটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগকেই অর্থবহ মনে করছে না তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির বিষয়ে দেওয়া জবাবও সন্তোষজনক নয় বলে রেজাই এর আগে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন রেজাই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে নেতার একটি বার্তা পৌঁছে দেন।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, আগ্রাসন বন্ধে মস্কোর ভূমিকা এবং জ্বালানি ও পরিবহন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ইরানে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও ছিল।
তিন ঘণ্টার বেশি সময়ের বৈঠক শেষে রেজাই জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দ্রুত বার্তাটি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। জবাবে পুতিন নেতার প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নিন্দা করেন। যুদ্ধকে তিনি অন্যায় বলে অভিহিত করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে মস্কোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আগ্রাসন বন্ধে সহায়তার জন্য তাঁর পক্ষে সম্ভব এমন সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতা
বৈঠকের বড় একটি অংশে পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরের সর্বশেষ পরিস্থিতি, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং দুই দেশের ২০ বছর মেয়াদি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর (আইএনএসটিসি) উন্নয়ন এবং ইরানকে আঞ্চলিক গ্যাস হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েও কথা হয়। এ পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়ার গ্যাস ইরানের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে দেশটির ভূমিকা বাড়তে পারে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। মস্কোর এই বৈঠককে তেহরান ও মস্কোর কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যৌথ ভূমিকার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে রেজাইয়ের সঙ্গে ছিলেন এসএনএসসির উপসচিব আলী বাঘেরি কানি এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। পুতিনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ এবং রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি, প্রেস টিভি, তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও আল-মায়াদিন।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের হতাশার বহিঃপ্রকাশ: এসলামি
‘নিরাপত্তা সবার জন্য, নয়তো কারও জন্য নয়’: ভেলায়াতি
ইরান যুদ্ধের চাপে 'চিড়া চ্যাপ্টা', পথ খুঁজছেন ট্রাম্প