বায়োগ্যাসে বদলে যাচ্ছে নন্নীর গ্রামীণ জীবন

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে বিকল্প জ্বালানির নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়ন। একসময় যে গোবর ছিল গৃহস্থালির বর্জ্য, এখন সেই গোবর থেকেই তৈরি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। এতে একদিকে কমছে পরিবারের জ্বালানি খরচ, অন্যদিকে উৎপাদিত অবশিষ্ট বর্জ্য ব্যবহার হচ্ছে জৈবসার হিসেবে। স্থানীয়দের উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তায় ধীরে ধীরে ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে নন্নী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্নী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার বর্তমানে বায়োগ্যাস ব্যবহার করছে। বাড়িতে গরু পালনের পাশাপাশি গোবর কাজে লাগিয়ে এসব পরিবার নিজেরাই রান্নার জ্বালানি তৈরি করছে। কারও কারও বায়োগ্যাস প্লান্টে গরুর গোবরের পাশাপাশি পোলট্রির বিষ্ঠাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

নন্নী ডেকরাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৪৫) ছয়টি গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করছেন। শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে তাঁর উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

একই ইউনিয়নের বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গোবর থেকে উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহার করতে বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। রান্নার কাজ সহজ হচ্ছে, পাশাপাশি গ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট গোবর জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এতে সংসারের খরচ কমার পাশাপাশি কৃষিকাজেও উপকার হচ্ছে।

তিনটি গরু থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করছেন স্থানীয় মাদ্রাসাশিক্ষক খোকন মিয়া। তিনি বলেন, আগে খড়ির চুলায় রান্না করতে অনেক সময় ও পরিশ্রম হতো। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন। ফলে রান্নার কাজে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন বায়োগ্যাস ব্যবহারে সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। গরু থেকে দুধ পাওয়ার পাশাপাশি গোবর দিয়ে তৈরি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। এতে প্রতি মাসে সিলিন্ডার গ্যাস কেনার প্রায় দুই হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ কমছে বলেও জানান তিনি।

শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, সাধারণত তিনটি গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। প্রতি ২২ কেজি গোবর থেকে প্রায় এক কেজি গ্যাস উৎপাদন সম্ভব। উৎপাদিত এই গ্যাস একটি পরিবারের দৈনন্দিন রান্নার চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তাঁর মতে, নন্নী এলাকায় বায়োগ্যাস ব্যবহারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ‘ইমপ্যাক্ট প্রকল্প ফেজ-৩’-এর আওতায় শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৮৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছে ৩০টি প্লান্ট। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলোকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নন্নী ইউনিয়নকে ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুনর রশীদ বলেন, বায়োগ্যাস প্রকল্প সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ এলাকায় রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমইউ
আরও পড়ুন