শীতের শুরুতেই রাজধানীতে আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে গ্যাস সংকট। রান্নাবান্নার জন্য দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
মগবাজার, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, কাঁঠালবাগান এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার। কোথাও গভীর রাতে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও সারাদিনেও গ্যাসের দেখা মিলছে না।
মিরপুরের গৃহিণীরা জানান, গ্যাসের অভাবে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে বাইরের খাবার বা সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করছেন। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। বাজারে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং দামও বেড়েছে কয়েক গুণ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে এটি বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের চেয়ে অনেক বেশি দামে। এতে দ্বিগুণ ব্যয়ের চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সিলিন্ডার পূর্ণ করতে পারছেন না চালকরা। এতে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং আয় কমে যাচ্ছে।
সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী সাইদুল হাসান বলেন, ‘অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে তা আবাসিক এলাকায় সরবরাহের চেষ্টা করা হয়।’ এছাড়া ঢাকায় অবৈধ সংযোগের কারণেও গ্যাসের চাপ কম থাকে বলে জানান তিনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত এলপিজির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম ও বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের মতে, অপচয় রোধে দক্ষ যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় বিকল্প জ্বালানির সহজলভ্যতা বাড়াতে হবে।
নির্বাচিত সরকার ভোলার গ্যাস সমস্যার সমাধান করবে: শিল্প উপদেষ্টা
রান্নার গ্যাস সাশ্রয়ে কিছু সহজ নিয়ম