নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এজাহারভুক্ত আসামিদের ছবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি মানা না হলে নরসিংদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ক্র্যাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, ‘ক্র্যাবের ইতিহাসে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা জঘন্যতম ঘটনা।’ তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
প্রতিবাদ সভায় ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ বলেন, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা চরম প্রশাসনিক গাফিলতির প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু না করে পুলিশ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আসামিদের পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কিংবা আইজিপির কেউই ক্র্যাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, এমনকি আহত সাংবাদিকদের দেখতে যাননি যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দাবি করেন, নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নরসিংদী জেলার এসপি ও থানার ওসির অপসারণ দাবি করেন।
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত হন, তখন দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার থাকে না।’ তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়াকেই সাংবাদিকদের ওপর হামলার সংস্কৃতির জন্য দায়ী করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন নরসিংদীর ঘটনাকে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার রক্ষার জন্যই দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে ঢাকা অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিজাব) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা কারও বন্ধু নন বলেই নির্যাতনের শিকার হলে অনেক সময় পাশে কেউ দাঁড়ায় না। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে হামলার মূল হোতাদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, পুলিশকে অবগত করার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূধন মন্ডল ও কামরুজ্জামান খান, সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইকরামুল কবীর টিপু, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাওসার মাহমুদ, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি সাফিউদ্দিন আহমেদ, সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদুল হকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পুলিশের লুট হওয়া গ্রেনেডসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার
রাজশাহীতে তারেক রহমান
