ঢাকার যানজট কমাতে এক টেবিলে ২৪ সংস্থা

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

ঢাকার যানজট কমাতে এবার সড়ক, গণপরিবহন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ২৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এক টেবিলে আনছে সরকার। রাজধানীর যানজটের কারণ চিহ্নিত করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় করতে ২৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে’ এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রীকে। সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালককে।

কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাশাপাশি ঢাকার চার সিটি করপোরেশন, পুলিশ, পরিবহন সংস্থা, নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়েছে। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথ থেকে শুরু করে গণপরিবহন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় সব পক্ষই কমিটির আওতায় এসেছে।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি, তিতাস গ্যাস এবং ডিটিসিএর প্রতিনিধিরাও কমিটিতে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিতে নয়টি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতের চলমান সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত ও আলোচনা করা, যানজটের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য সুপারিশ করা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রচারণা জোরদারের বিষয়ও কমিটির কার্যপরিধিতে রাখা হয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি গৃহীত উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।

কমিটির কার্যক্রম শুধু সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রজ্ঞাপনে প্রতি মাসে নিয়মিত সভা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। প্রতি মাসের প্রথম রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কর্মদিবসে সভা হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ২৪টি সংস্থাকে একই কমিটির আওতায় এনে নিয়মিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগকে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন