কালবৈশাখীর তান্ডবের মধ্যে দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষক, যারা হাওরে ধান কাটার সময় বাজের আঘাতে প্রাণ হারান।
নেত্রকোণা:
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের আব্দুল মোতালিব (৫৫), সাতগাঁও গ্রামে ধান শুকাতে গিয়ে মোনায়েম খাঁ পালান এবং ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় সিরাজগঞ্জের মো. শুভ মন্ডল (২৪) নিহত হন। খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২), আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) এবং জামালগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২)। এ সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন আহত হন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক এবং বানিয়াচং উপজেলায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) নামে এক যুবক বজ্রপাতে মারা যান। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, নিহত কৃষকের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
নোয়াখালী:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার খাসের হাটে বাদাম শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। বৃষ্টির সময় বাদাম ঘরে তোলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর এই মৌসুমে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা বা জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সারাদেশে বজ্রপাতে ১৫ জনের প্রাণহানি