বিশ্বজুড়ে তীব্র খরা, দাবদাহ ও প্রলয়ংকরী বন্যার শঙ্কা বাড়িয়ে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে জলবায়ুবিষয়ক প্রাকৃতিক ঘটনা ‘এল নিনো’। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি তীব্র রূপ নিতে পারে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ডব্লিউএমও’র মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলা হয়েছে, বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। ফলে এটি ডব্লিউএমও’র চার স্তরবিশিষ্ট তীব্রতার স্কেলে তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
ডব্লিউএমও’র জলবায়ুবিজ্ঞানী আলভারো সিলভা জানান, এর প্রভাব চলতি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এবং আগামী ২০২৭ সালেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হবে।
আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে বিশ্বের প্রধান প্রধান অঞ্চলে আবহাওয়া যেভাবে বদলে যেতে পারে:
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: ভারতসহ সমগ্র উপমহাদেশে মৌসুমি বায়ু বাধাগ্রস্ত হয়ে কম বৃষ্টিপাত ও তীব্র খরা দেখা দিতে পারে, যা কৃষিখাতকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।
অস্ট্রেলিয়া: অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি তীব্র খরা, তাপপ্রবাহ এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
আফ্রিকা: 'হর্ন অফ আফ্রিকা' অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়লেও মহাদেশটির দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে শুষ্ক খরা পরিস্থিতি তৈরি হবে।
দক্ষিণ আমেরিকা: পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই পেরুর ৮০০টি পৌরসভায় ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বিপরীতে উত্তর ব্রাজিলের আমাজন বনে দেখা দেবে তীব্র খরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো সরাসরি তৈরি না হলেও, উষ্ণ সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়ার শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা এল নিনোর প্রভাবকে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ও তীব্র করে তুলবে।
ডব্লিউএমও’র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো মানুষের জীবন ও অর্থনীতি বাঁচাতে জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোতে এখনই আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল, এবারও উত্তর গোলার্ধের শরৎকালজুড়ে এর তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
বৈশ্বিক কৃষিতে চরম বিপর্যয়ের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৮৮ লাখ মানুষ
৭৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে ধেয়ে আসছে প্রলয়ঙ্করী ‘এল নিনো’
সুপার এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়ের শঙ্কা