‘এআই ফোর্স’ গড়বেন ট্রাম্প, নিয়োগ দেবেন নতুন এআই জার

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উন্নয়ন ও তদারকিতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন একজন ‘এআই জার’ নিয়োগ এবং স্পেস ফোর্সের আদলে একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এআইকে এগিয়ে নিতে এবং এর নেতিবাচক দিকগুলো নজরদারির জন্য নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ‘এআই ফোর্স’ কী ধরনের প্রতিষ্ঠান হবে, কোথায় এর অবস্থান হবে, কী বাজেট থাকবে কিংবা সামরিক না বেসামরিক কাঠামোর অধীনে এটি পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত উদ্যোগকে নিজের প্রথম মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত স্পেস ফোর্সের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্পেস ফোর্স ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ষষ্ঠ শাখা হিসেবে কংগ্রেসের আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’কে সামরিক বাহিনীর পৃথক শাখা করতে হলে কংগ্রেসের আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই একজন নতুন ‘এআই জার’ নিয়োগ করবেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতি ও উন্নয়নকে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়ের একটি ব্যবস্থা পুনরায় চালু হতে পারে।

এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস ট্রাম্প প্রশাসনে এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি ওই পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্টের কাউন্সিল অব অ্যাডভাইজার্স অন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহ-সভাপতির দায়িত্ব নেন।

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাত, গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

ট্রাম্প অবশ্য এআই উন্নয়নে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে নন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এআই শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা দমিয়ে দিতে চায় না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই হলো পরবর্তী ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রতিক সতর্কতাকেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে খারিজ করেছেন। অন্যদিকে Anthropic-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং OpenAI-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি এআই উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাও ট্রাম্পের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ওয়াশিংটন মনে করে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিকাশের গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোও প্রয়োজন।

ট্রাম্পের নতুন ‘এআই ফোর্স’ পরিকল্পনা তাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তির ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—সে বিতর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে প্রস্তাবটির বাস্তব রূপ এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প প্রশাসন এআই ফোর্সের দায়িত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো ও আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা করলে এর প্রকৃত ভূমিকা আরও পরিষ্কার হবে।

এমইউ
আরও পড়ুন