আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিনামূল্যে ভিজিএফের চাল বিতরণকালে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এসময় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা চাল বিতরণের ছবি ধারণ করতে গেলে পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারীর প্রত্যেককে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু কার্ডধারীদের ৯ থেকে সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গরিব অসহায়দের না দিয়ে ভিজিএফের কার্ড দেওয়া হয়েছে বিত্তবানদেরও। এমন অভিযোগ চাল নিতে আসা সুবিধাভোগীদের।
এমন খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ছবি ধারণ করতে গেলে মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যার ছেলে বাধন ইসলাম সংবাদ কর্মীদের ক্যামেরা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রেকর্ড করা ভিডিও ডিলিট করার জন্য বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেন।
পরে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ জানালে মেয়র তেড়ে এসে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি করেন। এক পর্যায়ে লাঞ্ছিতের শিকার হন সিএনএন এর সংবাদকর্মী আব্দুল আওয়াল। এসময় পরিবেশ উত্তপ্ত হলে সাময়িকভাবে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সংবাদকর্মীরা ফিরে গেলে আবারও চাল বিতরণ করা হয় সুবিধাভোগীদের।
তবে মেয়রের এমন উগ্র আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসীরা। তারা বলছেন, মেয়রের এমন আচরণ মোটেও আশা করা যায় না। কেউ গোন্ডগোল সৃষ্টি করলে তিনি তা সমাধান করবেন। তা না করে মেয়র নিজেই মারামারিতে অংশ নিচ্ছেন। চাল বিতরণে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু তিনি যেভাবে সংবাদকর্মীদের সাথে আচরণ করলেন তাতে পৌরবাসী হতাশ।
মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা বলেন, চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ শুনে দ্রুত পৌরসভায় ছুটে আসি। পরে ১০ কেজি পূরণ করে তালিকাভুক্তদের চাল বিতরণ করা হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৬২১ জন ভিজিএফ কার্ডধারীর জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।