পরকীয়ার জেরে হত্যার অভিযোগ

বরগুনায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে উধাও স্বামী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

বরগুনার আমতলী উপজেলায় এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে। নিহত সুপ্রিয়া রানী (৩২) উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা বিমল ব্যাপারীর মেয়ে। তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার একই উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১২ সালে অজয় চন্দ্র ও সুপ্রিয়া রানীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, অজয় চন্দ্রের কথিত পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুপ্রিয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা।

পরিবারের দাবি, মারধরের সময় সুপ্রিয়া মোবাইল ফোনে তার মা দীপালী রানীকে বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হাসান রাহাত জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়ার মৃত্যু হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অজয় চন্দ্র ও তার সঙ্গে থাকা স্বজনরা হাসপাতাল থেকে সরে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সেই রাতেই নিহতের মা দীপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

একই দিন দুপুরে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অজয় চন্দ্রের বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহতের ১১ বছর বয়সী মেয়ে মিথিলা অভিযোগ করে বলে, বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় আমার মাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুপ্রিয়ার মা দীপালী রানী বলেন, আমার জামাতার তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বর্ণিকার সঙ্গে পরকীয়া ছিল। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

MCH/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত