ভারী বর্ষণে টুঙ্গিপাড়ায় আগাম শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
চলতি মাসে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ সবজি খেতে পানি জমে গাছ ও চারা পচে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের বাজারে সবজির সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।
 
আগাম বাজার ধরার লক্ষ্যে উপজেলার জোয়ারিয়া, পাথারঘাটা, ডুমুরিয়া, তারাইল, গোপালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠজুড়ে শীতকালীন আগাম সবজির আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে পটল, বেগুন, শিম, করলা ও অন্যান্য সবজির ফলন আসতে শুরু করেছে। এছাড়া শসা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুনসহ আরও বিভিন্ন সবজি আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু মৌসুমের এ অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিতে কৃষকদের সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
 
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, লাভের আশায় আগাম সবজি চাষ করলেও এ বছর নানা প্রতিকূলতার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে টানা বর্ষণে ক্ষেতে পানি জমে থাকায় সবজির গাছ ও চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক দিন-রাত পরিশ্রম করে নানাভাবে পানি অপসারণের চেষ্টা করেও ফসল রক্ষা করতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবজির চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ উপজেলার কৃষকেরাই সরবরাহ করে থাকেন। ফলে এখানকার উৎপাদন কমে গেলে জাতীয় পর্যায়ে সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সবজি খেতে পানি জমে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়ায় প্রায় ৭ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে অন্তত ১২ ধরনের আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। এখন কৃষকদের একমাত্র প্রত্যাশা আকাশ পরিষ্কার হোক, দ্রুত নেমে যাক জমে থাকা পানি, আর বেঁচে যাক তাদের সারা মৌসুমের পরিশ্রম।
MCH/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত