বরগুনায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

বরগুনার বামনা উপজেলার অযোধ্যা গ্রামে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন।

শনিবার (১আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

নিহত সাইফুল ইসলাম অযোধ্যা গ্রামের স্বপন হাওলাদারের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। 

এঘটনায় অভিযুক্ত সুমাইয়ার মোবাইল নম্বরের কলের সূত্র ধরে বামনা থানা পুলিশ খোলপটুয়া নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চু মোল্লা নামে একজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছেন। 

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে সাইফুলকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার স্ত্রী সুমাইয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি।

সাইফুলের চাচাতো ভাই রিপন জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে সাইফুল ও তার স্ত্রী খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকালে সাইফুলের চাচা স্বপনের ডাকচিৎকার শুনে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি জানান, সকালে সাইফুলের দাদা আইয়ুব আলী হাওলাদার বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় সাইফুলের স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সাইফুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, আইয়ুব আলী হাওলাদারের দুই ছেলে স্বপন ও রিপন পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির একটি ঘরে সাইফুল ও তার স্ত্রী থাকতেন।

নিহতের পরিবারের স্বজনরা জানান, সুমাইয়ার সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। 

অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া বর্তমানে পালাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে বামনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন খান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।’

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত