বন্যায় ডুবলো কবরস্থান, ভেলায় ভাসিয়ে নেওয়া হলো মরদেহ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির আঙিনা, চলাচলের পথ ও পারিবারিক কবরস্থান প্লাবিত থাকায় ৬০ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফোরকানের মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নেওয়া হয়। পরে অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে নিয়ে তার গোসল, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাতকানিয়ার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে ফোরকানের বাড়িসহ আশপাশের পুরো এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে তিনি বন্যার পানিতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বাড়িতেই মারা যান। তবে বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান পানিতে ডুবে থাকায় সেখানে মরদেহের গোসল বা দাফনের কোনো সুযোগ ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাধ্য হয়ে মরদেহ ভেলায় করে শুকনো স্থানে নেওয়া হয়। এরপর দস্তিদারহাট এলাকায় মরদেহের গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। রাতে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা শেষে পাশের পাহাড়ের সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, ‘বাড়ির পাশেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। সেখানে আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর রয়েছে। বাবা সব সময় বলতেন, তাকে যেন তাদের পাশেই দাফন করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি মারা যাওয়ার সময় পারিবারিক কবরস্থানে কোমরসমান পানি ছিল।’

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। ফোরকানের বাড়ি, কবরস্থান ও যাতায়াতের পথ প্লাবিত থাকায় মরদেহ ভেলায় করে শুকনো স্থানে নিয়ে যেতে হয়েছে। পরে দূরের একটি সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, মাছ ধরার সময় ফোরকান স্ট্রোক করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘মরদেহ এভাবে ভেলায় করে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত ছিল। বিষয়টি আমাদের জানানো হলে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতো।’

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলমান বন্যায় সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও প্রায় চার লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, সাঙ্গু নদের সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে উচ্চ জোয়ার এবং পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত নামছে না।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার সকাল থেকে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন