চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর প্রায় ৪০ বছর পর নিজেকে তাঁর মেয়ে দাবি করে এক নারীর স্বীকৃতি চাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নাজিরহাট পৌরসভায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু নাজিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুয়াবিল এলাকার বাদশা আলম চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা প্রয়াত আকতার আলী চৌধুরী। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯০ সালে মারা যান।
সম্প্রতি রাবিয়া বেগম নামের এক নারী নিজেকে আকতার আলী চৌধুরীর স্ত্রী এবং রেজিয়া সুলতানা নিজেকে তার মেয়ে দাবি করে নাজিরহাট পৌরসভায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
রেজিয়া সুলতানার দাবি, তার মা রাবিয়া বেগমের সঙ্গে আকতার আলী চৌধুরীর ১৯৮৫ সালে বিয়ে হয়েছিল বলে তিনি মায়ের কাছ থেকে জেনেছেন। ছোটবেলাতেই তার বাবা মারা যান। এরপর থেকেই মায়ের কাছ থেকে তিনি নিজেকে আকতার আলী চৌধুরীর মেয়ে হিসেবে জেনে আসছেন।
তবে বিয়ের কাবিননামা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিয়া সুলতানা বলেন, তার মায়ের বিয়ের কাবিননামার বৈধতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে তার জানা তথ্য মূলত মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া।
রাবিয়া বেগমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি আপাতত কোনো মন্তব্য করতে চান না।
এদিকে প্রয়াত আকতার আলী চৌধুরীর ছেলে মো. আলী আকবর চৌধুরী বলেন, পৌরসভা থেকে পাঠানো নোটিশের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তার দাবি, বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা আগে কখনো কোনো তথ্য জানতেন না। প্রায় চার দশক পর এমন দাবি ওঠায় তারা বিস্মিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকতার আলী চৌধুরীর বাড়ি সুয়াবিল এলাকার বাদশা আলম চৌধুরী বাড়িতে। তবে রাবিয়া বেগম ও রেজিয়া সুলতানা ওই বাড়িতে কখনো বসবাস করেছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
নাজিরহাট পৌরসভার সচিব বিপ্লব চন্দ্র মুহুরি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুনানি চলছে। শুনানি শেষে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বিয়ের কাবিননামা, জন্মনিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো নথির বৈধতা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রেজিয়া সুলতানা প্রয়াত আকতার আলী চৌধুরীর জৈবিক কন্যা কি না, তা নিয়ে আইনগত বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নাজিরহাট পৌর প্রশাসন ও ফটিকছড়ি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ বলেন, অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই শেষে দাবিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।
ট্রেন থেকে পড়ে দুই পা হারানো নেই নারীর মৃত্যু
হরিণাকুন্ডুতে কলাবাগান থেকে শুটারগান-দুই কার্তুজ উদ্ধার
টঙ্গীতে নিষিদ্ধ আ. লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন