ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলায় কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসল ও মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিষ চাকমা বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে হাতিয়ায় প্রায় ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো নিঝুম দ্বীপ। সেখানকার বেশির ভাগ কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে পুরো নিঝুম দ্বীপ ৪-৫ ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এ ছাড়া ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুখচর, নলচিরা, চরকিং, তমরুদ্দি ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নও।

অপরদিকে,হাতিয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চিঠিতে প্রায় চার হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
হাতিয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে তার সংসদীয় এলাকার নিঝুম দ্বীপের প্রায় ৯ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। ১০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার প্রায় ৬০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব কটি মাছের খামার ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ব্যাপক জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঢাল চরের চার হাজার পরিবার জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কাঁচাবাড়ির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাশাপাশি চর ঘাসিয়ায় বসবাসকারী প্রায় ২০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চানন্দি ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে চার হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ৫০০ কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিন সরকার বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝড়ো বাতাসে সুবর্ণচরে বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পেতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, এতে প্রায় ৩ হাজার ৩২৮টি বাড়িঘর আংশিক এবং ২৮টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়া তথ্য পাওয়া গেছে।
