অবাধে গাছ কাটার ফলে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের চর ওছমানে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। সংরক্ষিত বন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া এর ভেতর চলছে ধান চাষ ও বালির রমরমা ব্যবসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় উদ্যানের চর ওছমানে দিনে দুপুরে একদল `বনখেকো‘ কুঠার গাছ কাটতে দেখে গেছে। ক্যামেরা দেখামাত্র পালাতে থাকে তারা। আশপাশে লোকজন কাছে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা জাহাজমারা ১নম্বর ওয়ার্ডের সোহান ও ২নম্বর ওয়ার্ডের সোহেল জানান, যারা বন্দোবস্ত নিয়েছে তারা রাতে গাছ কেটে রেখে যায়। দিনের বেলা অন্যরা এসে নিয়ে যায়।

কাটাখালির জেলে রবিন জানান, বাগান দখলকারীরা গাছের ফাঁকে ফাঁকে ধান চাষ করে। যে কারণে গাছ মরে যাচ্ছে। আবার মরা গাছগুলোও অন্যরা নিয়ে যাচ্ছে।
বালি ব্যবসায়ী কালু মিয়া ও আলমগী বলেন, যারা গাছ কেটে বনের জায়গা দখল করেছে তাদেরকে ভাড়া দিয়ে আমরা বালি রেখেছি।
গেল বছরের শুরুতে চরটির বাগানে পরিবেশ পরিস্থিতি মোটামুটি পর্যায়ে থাকলে এ বছরে পরিস্থিতি অনেক করুন। এমন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য হারাতে বসেছে পরিবেশ, বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। যার বাস্তবিক প্রমাণ হলো আগে যেখানে সেখানে অগণিত হরিণের বিচরণ ছিল, এখন তা শূন্যের কোটায়।
বন ধ্বংসের ব্যাপারে জাহাজমারা বিট কর্মকর্তা বোখারী আহমদ জানান, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮টি বন মামলা হয়েছে এবং একটি পুলিশ এজাহার করা হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপআলোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে পদক্ষেপ নেব।’
নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, ‘প্রতিদিন বনের গাছকাটার ঘটনায় তদন্ত টিম পাঠিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
