মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের অভিযোগ 

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণের পণ্য বিতরণ করা হয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বিতরণ করা এসব ত্রাণের ব্যাগে অর্থবছর ২০২৪-২৫ উল্লেখ থাকলেও তা মানুষের হাতে পৌঁছেছে প্রায় দুই বছর পর। কোনো কোনো ব্যাগের লবণের মেয়াদ ত্রাণ পাওয়ার আগেই শেষ হয়েছে। আবার কিছু ব্যাগের লবণের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল বিতরণের মাত্র দুই দিন পর। তেলের মেয়াদও কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ৪০ জন এবং রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আরও ৫০ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিটি ব্যাগে ছিল ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল। এর সঙ্গে ছিল ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া। ব্যাগের গায়ে এসব পণ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ত্রাণসামগ্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ত্রাণ পাওয়া কয়েকজনের ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, হাসনা বেগম ২ সেপ্টেম্বর যে ব্যাগটি পেয়েছেন, তাতে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ ত্রাণ হাতে পাওয়ার দুই দিন আগেই ওই লবণ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। একই ব্যাগের তেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৬ সেপ্টেম্বর। অন্য পণ্যগুলোরও মেয়াদ চলতি সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা।

৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মলিকাডাংগা এলাকার রত্না বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ রয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ বিতরণের মাত্র দুই দিন পরই সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ওই ব্যাগের তেলের মেয়াদ শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর।

একই এলাকার জোসনা বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৯ সেপ্টেম্বর। আর হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজের পাওয়া ব্যাগের লবণের মেয়াদ ৩১ আগস্টেই শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ তিনি ত্রাণ পাওয়ার পাঁচ দিন আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ লবণ পেয়েছেন।

ত্রাণ পাওয়া কয়েকজনের অভিযোগ, কিছু পণ্য পুরোনো ও জমাট বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেটও সামান্য ছেঁড়া। রত্না বেগম বলেন, লবণ জমাট বেঁধে ছিল। চিনি ও ডালের প্যাকেটও কিছুটা ছেঁড়া ছিল। মেয়াদ না থাকলে এসব পণ্য খাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

হাসনা বেগম বলেন, পণ্যের মেয়াদ যাচাই করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। ত্রাণ যেভাবে পেয়েছেন, সেভাবেই বাড়িতে নিয়ে গেছেন। অন্য পণ্যগুলোর মেয়াদও দ্রুত শেষ হয়ে গেলে সেগুলো ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না বলে আশঙ্কা তাঁর।

জোসনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় তাঁর পাওয়া মসলা ও চিনি দলা বেঁধে গেছে।

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, বরাদ্দের সময়ের কাছাকাছি সময়ে এসব পণ্য বিতরণ করা হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পণ্যগুলো কোথায় এবং কতদিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে ত্রাণের বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী আসে। পরে অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণসামগ্রী পাওয়া যায়। পরে সেগুলো উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। মেলান্দহে কীভাবে পণ্যগুলো বিতরণ করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। উপজেলা পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যাবে বলে জানান তিনি।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত