আধুনিক সরঞ্জাম পড়ে আছে, প্রশিক্ষক সংকটে বন্ধ ৩ ট্রেড

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা গাজীপুরের কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে পুরোপুরি কাজে লাগছে না প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক না থাকায় মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন ও অটো ড্রাইভিং চাহিদাসম্পন্ন তিনটি ট্রেড প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী তরুণদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন ও সরঞ্জাম থাকলেও প্রশিক্ষক সংকটের কারণে এসব ট্রেড চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় অনেক তরুণ।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া টিটিসিতে মোট ৮৫টি পদ অনুমোদিত। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩১ জন। জনবলের এই ঘাটতির কারণে সব ট্রেডের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন ও অটো ড্রাইভিং ট্রেড।

তবে জনবল ঘাটতি কিছুটা সামাল দিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৩ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চালানোর চেষ্টা করা হলেও প্রশিক্ষক সংকট পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আর প্রশিক্ষকের অভাবে বন্ধ থাকা তিনটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করা যাচ্ছে না।

এদিকে শুধু প্রশিক্ষক সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়, কেন্দ্রটির তিনটি ল্যাব বা ওয়ার্কশপও বর্তমানে বন্ধ কিংবা অচল অবস্থায় রয়েছে। অথচ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

কাপাসিয়া টিটিসিতে বর্তমানে সাতটি ট্রেড চালু রয়েছে। এসব ট্রেডে আনুমানিক ৫০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কেন্দ্রটির বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬৭২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তিনটি ট্রেড দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেই সক্ষমতার একটি অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু প্রশিক্ষক সংকটের কারণে চাহিদাসম্পন্ন তিনটি ট্রেড বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত পদের তুলনায় বর্তমানে কর্মরত জনবল অনেক কম। জনবল সংকটই তিনটি ট্রেড বন্ধ থাকার মূল কারণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে বন্ধ ট্রেডগুলো চালু করা সম্ভব হবে।

এম.সি.এইচ
আরও পড়ুন