রাশিয়ার বিস্ফোরণে নিহত রাজুর মরদেহ দেশে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

রাশিয়ায় কর্মস্থলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত মেহেরপুরের গাংনীর আলাল হোসেন রাজুর (২৮) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কফিনবন্দি মরদেহটি গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

রাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা সেখানে ভিড় করেন। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। মুহূর্তেই বাড়ির আঙিনা ভারী হয়ে ওঠে শোকের আবহে।

রাজু হোগলবাড়িয়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের আশায় প্রায় ১৩ মাস আগে তিনি রাশিয়ায় যান। বিদেশে যেতে পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি ও ধারদেনা করে প্রায় আট লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেখানে তিনি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৫ জনের মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর রাজুসহ কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। আগুনে কয়েকটি মরদেহ অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতেও জটিলতা দেখা দেয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

রাজুর মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তার পারিবারিক জীবনে। তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার সময় তার স্ত্রী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। দেশ ছাড়ার মাত্র ১৭ দিন পর জন্ম নেয় তাদের ছেলে সাজিম। দূরদেশে বসে সন্তানের জন্মের খবর পেলেও জীবিত অবস্থায় ছেলেকে কখনো কোলে নিতে পারেননি রাজু।

চলতি মাসেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। স্ত্রী ও সন্তানকে কাছে পাওয়ার পাশাপাশি ছোট ছেলেকে একবার কোলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। স্বজনদের ভাষ্য, সাজিম হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এবং পুরোপুরি সুস্থ নয়। ছেলেকে দেখার আকাঙ্ক্ষাই ছিল দেশে ফেরার অন্যতম কারণ।

রাজুর বাবা খাইরুল ইসলাম বলেন, পরিবারের অবস্থা ভালো করার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। এখন ছেলেকে জীবিত নয়, নিথর মরদেহ হিসেবে বাড়িতে ফিরতে হলো।

রাজুর বন্ধু মিনারুল ইসলাম জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়েই রাশিয়ায় গিয়েছিলেন রাজু। সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে ছেলেকে কোলে নেওয়ার জন্য তিনি অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

এদিকে ছেলের মৃত্যুতে রাজুর মা ফাহিরন নেছা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বামীকে হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রাজুর স্ত্রীও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল না রাজুর পরিবার। ভবিষ্যৎ বদলানোর আশায় ধারদেনা ও পরিবারের সহায়-সম্বল বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এখন স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি বিদেশে যেতে নেওয়া ঋণ ও খরচের বোঝাও পরিবারটির সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত