সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আবারো দেখা মিললো ভয়ঙ্কর রাসেলস ভাইপার সাপ। উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী বাজারের পাশে শুক্রবার (২১ জুন) সকাল ১০টার দিকে 'রাসেলস ভাইপার' নামের ওই সাপের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পিটিয়ে সাপটি মেরে ফেলে স্থানীয়রা।
কলারোয়ার হিজলদী গ্রামটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। ওই গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, 'শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মাঠে যান। ধানক্ষেতের পাশে সাপটি তিনি দেখতে পান। সেসময় তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হলেও আশপাশের লোকজনের সহায়তায় সাপের গতিবিধি লক্ষ্য করে কিছু দূর গিয়ে কৌশলে সাপটি মেরে ফেলতে সক্ষম হন।'
তিনি আরো বলেন, 'ধারণা করা হচ্ছে সাপটি ভারতের সীমান্তে পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। কিছুদিন আগেও একই এলাকায় একজোড়া সাপের দেখা যায়। তবে মারা সম্ভব হয়নি।'
এদিকে কয়েক মাস আগে পার্শ্ববর্তী সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ালী গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ পিটিয়ে মারে কৃষকরা। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী একই এলাকায় আরো দুটি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী তা মেরে ফেলে।
ওই দুই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, 'ধারণা করা হচ্ছে রাসেলস ভাইপার নামের এই বিষাক্ত সাপ বিশেষ করে ধানক্ষেতে আশ্রয় নেয়। কারণ এই দুই এলাকায় ছাড়াও আশপাশে যেখানে এই সাপের সন্ধান মিলেছে তার বেশিরভাগ পাওয়া গেছে ধান ক্ষেতে।'
রাসেলস ভাইপার কামড়ালে করণীয়
কামড়ে যদি দাঁত বসে যায়, তাহলে ক্ষতস্থানের ওই জায়গাটিসহ ওপর-নিচের খানিকটা জায়গা নিয়ে হালকা করে ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হবে। নড়াচড়া করা যাবে না। রোগীকে সাহস দিতে হবে। হাঁটা-চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। যাতে রক্ত চলাচলটা একটু কম হয়। এভাবে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয় না। অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তখন এটা একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই সাপের বিষ এমনই বেশি যে একসঙ্গে শরীরের অনেকগুলো অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে যায়।