জুলাই আন্দোলন

আজ শেরপুরের তিন তরুণকে হারানোর দুই বছর

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

আজ ৪ আগস্ট। জুলাই আন্দোলনের সময় শেরপুরে নিহত তিন তরুণ মাহবুব আলম, সারদুল আশীষ সৌরভ ও সবুজের মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হলো।

২০২৪ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো শেরপুরেও আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। দিনটি উপলক্ষে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে তিন তরুণের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও জীবনের গল্প।

মাহবুব:

শেরপুর সদর উপজেলার তারাগড় কান্দাপাড়া গ্রামের মাহবুব আলম (১৯) ছিলেন শেরপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনা করতেন এবং নারীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।

মাহবুবের ভাই মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর দুই বছর পরও প্রকৃত দোষীদের বিচার না হওয়ায় পরিবার চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সৌরভ:

ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামের সারদুল আশীষ সৌরভ (২২) ছিলেন ডা. সেকান্দার আলী কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই তরুণ দরিদ্র মানুষের সহায়তা, ঈদে খাদ্য বিতরণ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে নিয়মিত অংশ নিতেন। একই দিনে আন্দোলন চলাকালে তিনিও প্রাণ হারান।

সৌরভের বাবা ছোরহাব আলী বলেন, ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশ।

সবুজ:

শ্রীবরদী উপজেলার রুপারপাড়া গ্রামের সবুজ ছিলেন একটি দরিদ্র পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবুজ নিহত হওয়ার পর প্রকাশিত ফলে জিপিএ-৪.৩৩ অর্জন করেন।

সবুজের মা সমেজা বেগম বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন, কিন্তু এখনও কোনো বিচার পাননি। ছেলের মৃত্যুর পর অসুস্থ স্বামীর অবস্থাও আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহবুবের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘শহীদ মাহবুব আলম মেমোরিয়াল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’। এই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও অনুদান দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, মাহবুব হত্যা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, নিহত সবুজ মিয়ার পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত