শেরপুরের বন্যায় কৃষি খাতেই ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:৪৯ পিএম

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের পাঁচ উপজেলায় সৃষ্ট বন্যার ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। পাহাড়ি নদী মহারশি, সোমেশ্বরী, ভোগাই ও চেল্লাখালীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র আস্তে আস্তে ফুটে উঠতে শুরু করেছে।

এই বন্যায় ক্ষেতের ফসল ডুবে নষ্ট হওয়া কৃষক পরিবারগুলো দিশেহারা। অনেক স্থান এখনও জলাবদ্ধ থাকায় পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা যাচ্ছে না।

তবে এ বন্যায় শুধু কৃষি খাতেই ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার ধারনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. সুকল্প দাস।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এবার প্রায় ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছিলো। বন্যায় রোপা-আমন, সবজি ও আধা চাষে ৩২ হাজার ১৫৭ হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬ টন চাল। ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১০ টন চাল। এতে সব মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চলতি আমন আবাদের ৪৭ হাজার হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সবজি আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার হেক্টর। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ পাঁচশ কোটি টাকা। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব হবে। 

তিনি আরও বলেন, এবারের বন্যায় প্রায় দুই লাখ কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সার-বীজ দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।

NC/AS
আরও পড়ুন