দিনাজপুরে বজ্রপাত ঠেকাতে ১ হাজার ৮০০ তালবীজ রোপণ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে ১ হাজার ৮০০ তালবীজ রোপণ করেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আমড়া থেকে বুড়াবুড়ি সড়কের পাশে ৮০০টি এবং বুড়াবুড়ি থেকে বাঁশমুড়ি সড়কের পাশে আরও ১ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপির সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির পাশাপাশি প্রতিবছর গবাদিপশুরও মৃত্যু হচ্ছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন ধারণা থেকেই সড়কের পাশে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারা বলেন, বজ্রপাত মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তালের মৌসুমে ফল খাওয়ার পর বীজ ফেলে না দিয়ে বাড়ির আশপাশে কিংবা রাস্তার পাশে রোপণের আহ্বান জানান তারা। চাইলে সংগ্রহ করা তালবীজ আনসার ও ভিডিপির কাছেও দেওয়া যাবে।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক চৈতী রাণী বলেন, দিনাজপুর জেলা কমান্ড্যান্টের নির্দেশনায় প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। দিন দিন তালগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যতে বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বেশি করে তালবীজ রোপণ প্রয়োজন।

সমাজসেবক মো. মোফাজ্জল হোসেন প্রধান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক। বড় গাছ বজ্রপাতের আঘাত শোষণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে স্থানীয়ভাবে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তালগাছকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

কর্মসূচিতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমীন আরা বানু, প্রশিক্ষিকা চৈতী রাণী, ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের দলনেতা বাবুল আক্তারসহ ভিডিপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ
আরও পড়ুন