যে শর্তে জামিন পেলেন নোবেল

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা, আপত্তিকর ছবি তোলার চেষ্টা ও ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল জামিন পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ আপসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত এই গায়ককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আদালত কক্ষে বাদী ও আসামির মধ্যে সমঝোতার সম্মতির প্রেক্ষিতে ১ হাজার টাকা মুচলেকায় এই আদেশ আসে।

মঙ্গলবার দুপুরে নোবেলকে আদালতে হাজির করে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি চলাকালে বিচারক বাদীর কাছে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে অনন্যা ইতিবাচক সাড়া দেন। এরপর বিচারক দুই পক্ষের কাছেই জানতে চান তারা আপস চান কি না। জবাবে নোবেল ও অনন্যা দুজনেই ‘হ্যাঁ’ বলেন। নোবেলের আইনজীবী মো. রানা শেখ আপসের বিষয়টি তুলে ধরে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে মামলার আগামী ধার্য তারিখ ২ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেয় আদালত।

আদালত কক্ষে দেখা যায় এক নাটকীয় দৃশ্য। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নোবেল বাদীর সঙ্গে কথা বলেন। আইনজীবী ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে গেলে নোবেল অনন্যাকে খুঁজে জিজ্ঞেস করেন, ‘অনন্যা কই?’ পাশে থেকে অনন্যা সাড়া দিলে নোবেল বলেন, “আমি কি করব? সাইন করব?” অনন্যা ‘হ্যাঁ’ বললে নোবেল আবার প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে কি হয়ে যাবে?’ অনন্যা জানান, ‘হ্যাঁ।’

জামিনের আদেশ শুনে নোবেলকে হাসতে দেখা যায়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জামিন হয়ে গেছে। জেলে যাওয়া লাগবে না। তোমরা যত জটিল ভেবেছিলে, এতো জটিল না। এক কথায় জামিন হয়ে গেছে।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তিনি আদালতে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অপকর্মের হিস্টোরি আছে, তবে গ্রেপ্তারের পর বাদীর সঙ্গে আপোসের কথাবার্তা চলছে।

গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা। পিবিআই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৭ জানুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেন। বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টায় অন্য আসামিরা তাকে সহযোগিতা করেন।

AHA
আরও পড়ুন