এ বছর আদালত অঙ্গণে আলোচিত ঘটনা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৯ এএম

২০২৩ সালে দেশের আদালত অঙ্গণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং ঢাকার আদালতগুলো বছরজুড়ে বিভিন্ন রায়, আদেশ ও পর্যবেক্ষণ দেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি এবং আদালতের মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। নিম্ন আদালতে ১৪ সপ্তাহে মোট ৯১ মামলায় ১৪৫২ জন বিএনপি নেতাকর্মীর কারাদণ্ড, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ, দেশটাকে জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন’ অবসরের আগে একজন বিচারপতির এমন মন্তব্য দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

মাকে অভিভাবকের স্বীকৃতি দিয়ে রায়, বিচারককে সকালে এক মাসের সাজা বিকেলে সাজা স্থগিত, সর্বোচ্চ আদালতে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রাখা, র‌্যাবের হেফাজতে নারী মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন, হিন্দু নারীদের ডিভোর্সের অধিকার দিতে রুল, বিনামূল্যে চিকিৎসা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় সংসদকে হাইকোর্টের ১৬ পরামর্শ, কোম্পানি আইন সংশোধন ও যুগপোযোগী করতে হাইকোর্টের রায়, দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে রায়, বিচারপতিকে নিয়ে কটূক্তির কারণে বিএনপি নেতা হাবিবকে ৫ মাসের সাজা, বিএনপির শীর্ষ ৭ আইনজীবীকে তলব, ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়ার মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ২০২৩ সালে আদালত অঙ্গনের আলোচিত ঘটনা।

১৪ সপ্তাহে ৯১ মামলায় ১৪৫২ বিএনপি নেতাকর্মীর কারাদণ্ড
বিদায়ী বছরে ঢাকার আদালতগুলোতে নাশকতার অভিযোগে করা ৯১টি মামলায় মাত্র ১৪ সপ্তাহে ১৪৫২ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, সরকার ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির ২১,৮৩৫ জন নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে কারাগারে অন্তরীণ করেছে। গত ১৪ সপ্তাহে মোট ৯১টি মামলায় সর্বমোট ১৪৫২ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে।

অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও প্রায় একশত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং এসব মামলা কয়েক হাজার নেতাকর্মী আসামি বলে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন। কায়সার কামাল জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও প্রায় শতাধিক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। তবে এসব মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষে ডিফেন্স আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে পারছেন না।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মামলায় বিএনপি ও সহযোগী গণসংগঠনগুলোর ৫০ লাখের বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, বর্তমান সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনামুল হক, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া, রাজীব আহসান ও হাবিবুর রশীদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন।  

দেশটা তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন, বিচারপতির মন্তব্য
দেশটা তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন, হাইকোর্টের একজন বিচারপতির এমন মন্তব্যে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিনের জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করায় উষ্মা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। আদালত তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশটা তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন।

গত ১০ অক্টোবর বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের একক বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। শুরুতে আদিলুর-এলানের পক্ষে জামিন শুনানি করতে দাঁড়ান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম দাঁড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আমাদেরও বক্তব্য আছে। তখন হাইকোর্ট বলেন, আসামিদের আইনজীবীদের আগে বলতে দিন। আপনি এখনই লাফ দিয়ে উঠছেন কেন?

এরপর আসামিদের আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আসামিদের দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জানতে চান, জামিনের আবেদন দেওয়া হয়েছে কি না? আইনজীবী বলেন, দেওয়া আছে। এ সময় আবারও জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম। তখন আদালত উষ্মা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাহলে তাদের ২ বছরের সাজা দিলেন কেন? যাবজ্জীবন দণ্ড দিতে পারলেন না? এক পর্যায়ে আদালত বলেন, দেশটা তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন।

এই মন্তব্যের কারণে বিচারপতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ করেন। ওইদিনই সন্ধায় প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে কথাবার্তা বলার সময় আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে এ মামলায় এখন সর্বশেষ ধাপে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে আসবেন এবং এদিন মামলার যুক্তি উপস্থাপনের শুনানি শেষ হতে পারে বলে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন। এ মামলার গত ৬ ডিসেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সপ্তম বারের মতো শ্রম আদালতে হাজির হন। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি সুবিচার চাই।   

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদি হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে বিবাদি করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল
বিদায়ী বছরের ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করে আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় জামায়াতে আপিল খারিজ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) করে আদেশ দেন। ১৯ নভেম্বর জামায়াতের আপিলটি শুনানির জন্য উঠলে এ মামলায় নিয়োজিত সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর ব্যক্তিগত অসুবিধার জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রহমান। তবে বার বার সময় আবেদন করায় আদালত তা নাকচ করে আপিল খারিজ করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

আদেশের বিষয়ে আইনজীবীরা বলেন, সেই সাথে আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন মামলার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করা হয়েছিল সেই আপিলটিও ডিসমিসড ফর ডিফল্ট হিসেবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ফলে আমাদের আপিলটি ডিসমিসড ফর ডিফল্ট হিসেবে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে না। আপিল বিভাগের আদেশের মধ্যদিয়ে এ মামলাটির চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়।

মাকে অভিভাবকের স্বীকৃতি দিয়ে হাইকোর্টের রায়
বছরের ‍শুরুতে ২৪ জানুয়ারি শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থীর তথ্য সংক্রান্ত ফরম (এসআইএফ) সংশোধনের মাধ্যমে ‘বাবা’ অথবা ‘মা’ অথবা আইনগত অভিভাবকের নাম যুক্ত করতে নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে তিনজনের যেকোনো একজনের নাম দিয়ে শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করা যাবে। সব ফরম সংশোধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রায়ে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এসএসসি) পর্যায়ে বাবার নাম না দিয়ে মায়ের নাম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণের সুযোগ নিয়ে ১৪ বছর আগে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আবেদনকারীদের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা বলেন, এই রায়ের ফলে মায়ের অধিকারও আংশিক প্রতিষ্ঠিত হলো। আর মা-বাবার পরিচয়হীন যেকোনো শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হলো।

হিন্দু নারীদের ডিভোর্সের অধিকার দিতে রুল
বিদায়ী বছরের ১৪ মে হিন্দু বিবাহ আইনে নারীদের ডিভোর্সের অধিকার, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। হিন্দু বিবাহ আইন বিয়ে রেজিস্ট্রেশন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এর আগে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্টসহ ৯টি সংগঠন হিন্দু নারীদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে ও হিন্দু বিবাহ আইনের অংসগতি দূরীকরণে একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

র‌্যাবের হেফাজতে নারীর মৃত্যু
হাইকোর্টের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন বিদায়ী বছরের ৫ এপ্রিল নওগাঁয় র‌্যাবের হেফাজতে ভূমি অফিসের সহকারী সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত র‌্যাবের সদস্যদের দায়িত্ব থেকে আপাতত সরিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। কমিটিতে জেলা জজ পদ মর্যাদার একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে রাখতে বলা হয়। একজন সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি গত আগস্ট মাসে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট। আদলত এ বিষয়ে রুল শুনানির দিন রেখেছেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা
বিদায়ী বছরের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে বলেন, বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। প্রত্যেক নাগরিককে তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার প্রদানের নিমিত্ত আমরা ঘোষণা করছি যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে সকল প্রকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া তার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। তেমনি বিনামূল্যে ভেজাল মুক্ত তথা নির্ভেজাল ওষুধ পাওয়াও প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। ভেজাল প্যারাসিটামল সেবন করে মৃত্যুর ঘটনায় ১০৪ শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ঘোষণা দেন।

বিচারককে সকালে এক মাসের কারাদণ্ড বিকেলে স্থগিত
বিদায়ী বছরের ১২ অক্টোবর তারিখে আদালত অবমাননার দায়ে কুমিল্লার সাবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সোহেল রানাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সোহেল রানাকে সাতদিনের মধ্যে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

FI
আরও পড়ুন