সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় তিন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- কাজী বশির আহমেদ, জাকির হোসেন মাসুদ ও শ্যামা আক্তারকে।
সোমবার (১১ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর বিভাগ থেকে তাদের বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। এ মামলায় আসামি হিসেবে ২০ জনের নাম করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ জনকে।
বরখাস্তকৃত তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে কাজী বশির ও জাকির হোসেন মাসুদ হামলার ঘটনায় মামলার আসামি। নাহিদ সুলতানার স্বামী যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৮ মার্চ ভোরে মারধরের ঘটনার সময় সম্পাদক পদে নাহিদ সুলতানাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত উপকমিটির প্রধানকে বাধ্য করা হয়। মারামারির ঘটনায় করা এই মামলায় যুবলীগের তিনজন পদধারী নেতাকেও আসামি করা হয়।
অবশ্য পরে ভোট গণনা শেষে গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টায় যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তাতে সভাপতি পদে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন (খোকন) এবং সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগের শাহ মঞ্জুরুল হক নির্বাচিত হয়েছেন। সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১০টি, বিএনপি পেয়েছে ৪টি।
মারধরের ঘটনায় করা মামলায় গত শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুসকে। তাঁকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন। একই মামলায় এর আগে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বশির আহমেদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
