সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কতটুকু অবদান রাখা যাচ্ছে, সেটিই জীবনের সফলতার প্রকৃত মাপকাঠি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিগ্রি মানুষকে অনেক সুযোগ তৈরি করে দেয়, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে শেখায় দায়িত্ববোধ। ব্যক্তিগত অর্জন বা পদবি দিয়ে সাফল্য মাপা যায় না; বরং অর্জিত জ্ঞান দিয়ে আমরা সমাজকে কী দিচ্ছি, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’ তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই অধ্যাপক আবরার জুলাই বিপ্লবের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘শহীদদের মহান ত্যাগের কারণেই জাতি আজ অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিকে রূপান্তরিত হতে পেরেছে।’ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে তরুণ সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিবেক ও যুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘তরুণদের প্রযুক্তির দাস হওয়া চলবে না, বরং প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহের মধ্যে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে বিচার-বিশ্লেষণী ক্ষমতা থাকা জরুরি।’
অভিভাবকদের ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমেই বাবা-মায়ের বিনিয়োগ সার্থক হয়। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমাবর্তনে জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক রূপান্তরের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে শাবিপ্রবি প্রশাসন
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ
