ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্যের নিন্দা, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ ও তার কুশপুতুল দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই জামায়াত নেতার বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াত নেতার একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। 

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’

জামায়াত নেতার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ (তন্বী) বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা এখানে অনেক সংগ্রাম করে আসে। তারা যখন নারীদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করে, তখন আসলে তারা নারীদের সেই অধিকারকে ছোট করে। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে তারা সহজলভ্য করে দেয় এই বক্তব্যের মাধ্যমে। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমরা এই কুশপুত্তলিকা দাহের মাধ্যমে তাদের ওই চিন্তাধারাকে পুড়িয়ে দিতে চাই, যে চিন্তাধারা আমাদেরকে বড় হতে দেবে না, আমাদেরকে ছোট করবে।’

সমাবেশে জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সভাপতি পল্লব বর্মণ বলেন, ‘ডাকসু নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতের কর্মীদের আমি স্পষ্ট একটা হুঁশিয়ারি দিতে চাই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার আগে ভেবে দেখবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। আপনাদের এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শোনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বসে নেই।’

ডাকসুর কেন্দ্রীয় সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ‘আমরা চাই নারীবান্ধব একটা বাংলাদেশ। যে নারীরা কত কষ্ট করে পুরো বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করছে। এই দেশের যে গার্মেন্টসকর্মীরা আছেন, তার বেশির ভাগই নারী, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। তাদেরকে ঢালাওভাবে এই যে বেশ্যাবৃত্তির কথা বলা হচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদেরকে এভাবে বলা হচ্ছে, আমি তাদের ওপর ঘৃণা জানাই।’

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসান বলেন, নির্বাচনী মাঠের ভেতরে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি নিম্নমানের এবং মাদকাসক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছে।

HN
আরও পড়ুন