শিক্ষা, জলবায়ু, স্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নসহ নানা সামাজিক ইস্যুতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৫৬ শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের মিলেনিয়াম ফেলোশিপে নির্বাচিত এসব শিক্ষার্থী বাস্তব সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেন।
টানা পঞ্চমবারের মতো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই আন্তর্জাতিক ফেলোশিপে অংশ নিচ্ছেন। ইউনাইটেড নেশনস একাডেমিক ইমপ্যাক্ট (ইউএনএআই) ও মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক (এমসিএন) পরিচালিত এই কর্মসূচি মূলত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে বাস্তব সামাজিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার সুযোগ পান।
এবার বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশের ছয় হাজারেরও বেশি ক্যাম্পাস থেকে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী মিলেনিয়াম ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৩০টি ক্যাম্পাসের ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচিত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি-৪), অসমতা হ্রাস (এসডিজি-১০), জলবায়ু কার্যক্রম (এসডিজি-১৩), শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (এসডিজি-১৬) এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব (এসডিজি-১৭)।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্য এবারের অর্জনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। একই সঙ্গে এ বছর ফেলোশিপে নির্বাচিত ১৫৬ শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের নজির তৈরি করেছেন। শুধু ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্য নয়, মিলেনিয়াম ফেলোশিপের ইতিহাসেও কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড এটি।
ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘শিক্ষা তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয় যখন তা তরুণদের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যে আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার দেখিয়েছে, তার স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের। তাদের উদ্যোগগুলোতে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার আগ্রহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই গুণগুলোই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বছরভিত্তিক হিসাবেও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালে প্রথমবার ১৪ জন শিক্ষার্থী মিলেনিয়াম ফেলোশিপে নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ জনে। ২০২৪ সালে ২৬ জন এবং ২০২৫ সালে ৫০ জন শিক্ষার্থী ফেলোশিপ পান। চলতি বছর এক লাফে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫৬।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার এবং এমসিএনের সিভিক লার্নিং কাউন্সিলের কো-চেয়ার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, ‘মিলেনিয়াম ফেলোশিপ শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে সমাজের প্রয়োজনকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানুষের জন্য কাজ করার, সমাজের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ পায়।’
গত ২০ আগস্ট ‘মিলেনিয়াম ফেলোশিপ গ্লোবাল টাউন হল’-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের নির্বাচিত ফেলোদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তাঁদের উদ্যোগের সুফল সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেও কাজ করবেন তারা।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে রক্তকরবী মঞ্চায়ন
সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী