চুয়েটে আন্দোলনের ষষ্ঠদিন, সেশনজটের আশঙ্কা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্বস্তি ফিরেনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের ষষ্ঠদিনেও বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রত্যাহার করা উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলছে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন। টানা আন্দোলনে অচল থাকায় সেশনজটের আশঙ্কাও বেড়েছে।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত আছে। চুয়েট ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। একই সময় সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে চুয়েটের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির ডাকা এই কর্মসূচিতে সকাল থেকে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। কর্মচারীরাও সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। আন্দোলনের কারণে চিরচেনা চুয়েটের পরিবেশও পাল্টে গেছে।

রোববার দুপুরে দেড়টার পর শুরু হয় শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে মিছিল করে। এসময় তাদের হাতে ছিল ‘৫৬?’ লেখা কার্ড। পরে মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাসের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয়। নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এবং এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে তার কারণ উল্লেখ না থাকায় ‘৫৬?’ লেখা কার্ড হাতে মিছিল করা হয়। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সেশনজটের ঝুঁকি থাকলেও আমাদের কিছুই করার নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশে এসেছেন। আমরা আশা করছি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে পড়বে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আমরা শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমাদের দাবি থাকবে আমাদের দাবি যেন মেনে নেয়া হয়। তবে দাবি মেনে না নেওয়া হলে আরও নতুন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।  

এদিকে গত শনিবার দুপুরে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখান করে ‘লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রত্যাহার করা উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও পালন করে শিক্ষার্থীরা। 

২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর সেদিন রাত থেকেই আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন উপাচার্যকে চুয়েটে চান না বলেও জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি। এরপরও চলমান আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়। 

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়। ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। চুয়েটের মূল ফটকে তালা দিয়ে চলছে একটানা আন্দোলন।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত