শাবিপ্রবির এক হলে রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়!

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সৈয়দ মুজতবা আলী হলে রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই হলের একই তলার ওয়াশরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় তিনটি বিড়াল উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর জামাকাপড় কেটে নষ্ট করা হয়। প্রায় দুই মাস আগেও একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। রাতের আঁধারে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য কাপড় নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় এবং বিদ্যমান ক্যামেরাগুলোর অবস্থান মূলত সিঁড়িমুখী হওয়ায় এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকারিয়া আলম বলেন, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। কাপড় কাটার ঘটনা সাময়িকভাবে মিটে গেলেও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা না গেলে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই হলে অবস্থান করতে পারেন, যা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হল প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

একই হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. তৌফিক বলেন, বিশেষ করে তৃতীয় তলায় মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিনেও এর সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত সমস্যাটির সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তৌফিক আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর একসঙ্গে অনেকগুলো কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়া বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চেয়ে আবেদন

সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি ও সহকারী প্রভোস্ট মঞ্জুরুল হায়দার হলে যান। তাঁর ভাষ্য, আগে হলে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল।

প্রভোস্ট জানান, প্রায় দুই মাস আগেও জামাকাপড় কাটার ঘটনা ঘটেছিল। তখন এ বিষয়ে সভা করে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন পাঠানো হয়। আবেদনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত ক্যামেরাগুলো পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর তুলনামূলক বেশি কাপড় নষ্ট হওয়ায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রভোস্ট।

তিনি আরও বলেন, হলের ওই ব্লকে এমন কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁরা প্রতিদিন তিন বেলা হলে আসছেন বলেও জানান তিনি।

বারবার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

এমএজেড
আরও পড়ুন