ঢাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

দাবি না মানলে

বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা প্রাথমিকের শিক্ষকদের

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৫ পিএম

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক তিন দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৭ নভেম্বর থেকে চলমান এ কর্মসূচির মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে নতুন আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হবে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা লাগাতার কর্মবিরতি করছি। সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০০-এর বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ। রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করতে বাধ্য হবো।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্র জানায়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এখানে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত, যাদের বেশির ভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। গ্রেড উন্নীতকরণসহ কয়েকটি দাবি দীর্ঘদিন ধরে তারা তুলে আসছেন।

গত ৮ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফেরেন। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় কর্মবিরতি শুরু হয়।

কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাতে গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনরত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডিপিইর মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার অনুরোধও জানান। তবে শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুবর রহমান বলেন, ডিজি স্যার বার্ষিক পরীক্ষা নষ্ট না করতে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মবিরতি থেকে সরে আসা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

আরেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, ডিজি জানিয়েছেন, পে-কমিশন দাবি নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের দাবির সঙ্গে পে-কমিশনের সম্পর্ক নেই। অর্থ বিভাগের সচিবও বলেছেন, সরকার চাইলে দাবি একদিনেই বাস্তবায়ন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাড়লে পাঠদানের মান আরও উন্নত হবে। বার্ষিক পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে নেওয়া গেলেও সমস্যা নেই। এখন দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে অর্থ বিভাগের সচিবের সঙ্গে আবার বৈঠকের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

সরকার সরাসরি দশম গ্রেডে উন্নীত করতে না চাইলেও আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। তবে শিক্ষকরা বলছেন, প্রথমে সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন চান তারা।

LH
আরও পড়ুন