আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় ইরান ও বাংলাদেশের তরুণদের বাজিমাত

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

ক্ষুদ্র কৃষকদের বসতবাড়ির গাছকে কার্বন ক্রেডিটে রূপান্তর করে আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টির উদ্ভাবনী ভাবনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় রানার-আপ হয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বোডিট’।

গত ৭ থেকে ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব লড়াই করে। মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে বিচারকদের বিচারে ইরান চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ভারত, নেপাল ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হরিণী অমরসূর্য এবং সভাপতিত্ব করেন সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর। বার্ড-এর মহাপরিচালক মো: সাইফ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়।

কার্বোডিটের উদ্ভাবনী মডেলটি মূলত গ্রামীন কৃষিবনায়ন ও বসতবাড়ির গাছের কার্বন ধারণক্ষমতা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেপে তা আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারের সাথে যুক্ত করবে। এর ফলে একদিকে যেমন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সম্ভব হবে, তেমনি গ্রামীণ মানুষের জন্য তৈরি হবে স্থায়ী আয়ের পথ।

এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নে গ্রামভিত্তিক ‘ভিলেজ কার্বন গ্রুপ’ তৈরি, প্রশিক্ষিত তরুণদের মাধ্যমে গাছের তথ্য সংগ্রহ এবং কার্বন মজুত নিরূপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে গ্রামীণ তরুণদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাইফুল্লাহ মানওয়ারের নেতৃত্বে কার্বোডিট দলে রয়েছেন ফাবিয়ান তাসকিন, অদিতি ঘোষ ও আরফা সাইয়ারা রিজা। প্রায় এক বছর ধরে কাজ করা ২১ সদস্যের এই তরুণ দলটি ইতোমধ্যে গাজীপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও নাটোরে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিস্তার করেছে।

আন্তর্জাতিক এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই সাফল্য পুরো দেশের জন্যই গৌরবের। তরুণদের এমন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন জলবায়ু সুরক্ষা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত